1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

শরিকি হানিমুন শেষ

২১ সেপ্টেম্বর ২০১২

খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিবাদের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তাঁদের ইস্তফাপত্র তুলে দেন৷ নতুন পরিস্থিতিতে কর্মপন্থা নির্ধারণে বসে কংগ্রেসের কোর কমিটির বৈঠক৷

https://p.dw.com/p/16CO9
ছবি: AP

খুচরো ব্যবসায় বিদেশি লগ্নি এবং ডিজেলের দাম নিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চাপে পিছু না হটায় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর বাসভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র তুলে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের ছয় মন্ত্রী৷ আর্থিক সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী যে কতটা দৃঢ়সংকল্প তা বুঝিয়ে দিতে বৃহস্পতিবারই বিদেশি বিনিয়োগ সম্পর্কে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়৷ জানা গেছে আর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বিমা ও পেনশন ক্ষেত্রে বিদেশি লগ্নির সবুজ সংকেত দেবেন৷

তৃণমূল সমর্থন তুলে নেবার পরবর্তী পরিস্থিতিতে সরকারের কর্মপন্থা স্থির করতে বসে কংগ্রেস কোর কমিটির বৈঠক৷ সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কীভাবে ধরে রাখা যায়, তা নিয়ে চলে শলাপরামর্শ৷ তবে মুলায়েম সিং-এর সমাজবাদী পার্টি সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে বলে জানিয়ে দেয়ায়, আপাতত সরকার স্বস্তিতে৷ পাশাপাশি দলিত নেত্রী মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির সমর্থন পাবার সম্ভাবনা প্রবল৷ এই দুই দলের ৪৩ জন সাংসদ৷ কোনো দলই চাইছে না মধ্যবর্তী নির্বাচন৷

মমতা বন্দোপাধ্যায় এই চরম সিদ্ধান্তটা নিয়ে কী ভুল করলেন? রাজনৈতিক অলিন্দে এই প্রশ্নটা ঘোরাফেরা করছে৷ বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. অমল মুখোপাধ্যায় মনে করেন, এটা হিমালয় সদৃশ ভুল৷ প্রথম ইউপিএ শাসনে সিপিএম পরমাণু ইস্যুতে সমর্থন তুলে নিয়ে যে ভুলটা করেছিল, মমতা সেই ভুলটাই করলেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, ‘‘সরকারের সঙ্গে বৈরিতার সম্পর্ক তৈরি হলে, যতটা সুযোগ সুবিধা জোটসঙ্গী হয়ে পাওয়া যায়, তা পাওয়া যাবে না৷ রেল মন্ত্রক হাতে না থাকাটা মস্ত ক্ষতি৷ রেল মন্ত্রকের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে যতগুলি প্রকল্প হবার কথা তা আটকে যাবে কিংবা দেরি হবে৷ দ্বিতীয়ত, রেল মন্ত্রক থাকা মানে অনেক লোকের কর্মসংস্থান করে দেয়া৷ সেই লোভ দেখিয়ে বহু লোককে দলে টানা৷ সামগ্রিক বিচারে এই সিদ্ধান্ত মমতার গুরুতর ভুল৷''

ড. মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আবেগের ভিত্তিতে রাজনীতি বা প্রশাসন চলে না৷ তৃণমূলের মতাদর্শগত অবস্থান কী, কেউ জানে না৷ খামখেয়ালিপনার ভিত্তিতে রাজ্য চলছে৷ তৃতীয়ত, এই সিদ্ধান্তে আখেরে দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে৷ সেটা বোঝা গিয়েছিল দলের কর্ম সমিতির বৈঠকেই৷ কেননা মমতা যা বলেন সাধারণত দু'মিনিটেই তা পাস হয়, কিন্তু এবার তা চলে ৩-৪ ঘন্টা৷ মানে বিরোধিতা হয়েছিল৷ যাঁদের মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছে তাঁরা অখুশি৷ আমাদের দেশে, ক্ষমতার লোভ কার না আছে? সেই অসন্তোষ ক্রমশ বিরোধিতার আকার নেবে৷ ব্যক্তিসর্বস্ব যে রাজনীতি শুরু হয়েছে, সেটা থাকবে না৷''

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুন দিল্লি

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য