1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

রোহিঙ্গাদের দুর্দশা

২৪ জুন ২০১২

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অং সান সু চি’র ঐতিহাসিক ইউরোপ সফরকে ম্লান করে দিচ্ছে৷ সেদেশের সামরিক জান্তার সমর্থক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে একটি বিষয়ে মিল আছে: তা হচ্ছে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা৷

https://p.dw.com/p/15KQB
ছবি: AP

মিয়ানমারের গণতন্ত্রের মানস কন্যা অং সান সু চি এখন ইউরোপ সফরে রয়েছেন৷ নিপীড়ন এবং সহিংসতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সু চি'র প্রশংসায় পঞ্চমুখ পশ্চিমা সমাজ৷ অথচ তাঁর দেশেরই এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের প্রতি সদয় না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি তাদেরকে (রোহিঙ্গা) শতভাগ ঘৃণা করি৷''

গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ ইয়াঙ্গুনে জমায়েত হচ্ছে৷ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া৷ ‘‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্থান নেই!'' এই হচ্ছে তাদের বক্তব্য৷ কিছু মানুষ তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে আর সেদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের এখন দাবি হচ্ছে, তারা ‘বাঙালি মুসলমান'৷

বলাবাহুল্য, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসেনি, তারা মিয়ানমারের৷ সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়ের বাস মূলত সেদেশের পশ্চিমের রাখাইন রাজ্যে৷ সমস্যা হচ্ছে, তাদেরকে নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করছে না মিয়ানমার এবং যেসব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সেদেশ স্বীকৃত দিয়েছে সেই তালিকাতেও রোহিঙ্গাদের জায়গা হয়নি৷ গত কয়েক দশক ধরেই সেদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিপীড়ন এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গারা৷ দুই সপ্তাহ আগে এই সহিংসতা ব্যাপক আকারে বেড়ে যায়৷ বর্তমানে পরিস্থিতি খানিকটা শান্ত মনে হলেও সংঘর্ষে দুই পক্ষের মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ৮০ এবং হাজার হাজার বাড়িঘর পুড়ে গেছে৷

Myanmar Rohingya Flüchtlinge
রোহিঙ্গারা এখন কোনপক্ষের কাছ থেকেই সহানুভূতি পাচ্ছে নাছবি: AP

সর্বশেষ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে রোহিঙ্গারা তাৎক্ষণিকভাবে আশ্রয় পেতে চেয়েছিল প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশে৷ কিন্তু বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদেরকে আর আশ্রয় দিতে রাজি নয়৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল এই বিষয়ে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, এটার শিকার শুধু বাংলাদেশ হবে না৷ বাংলাদেশের অন্তত বলা উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, ঠিক আছে আমি তাদেরকে কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় দেব৷ কিন্তু আমাকে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দাও, কতজনকে আশ্রয় দেবো? আজকে যদি আমি দশ হাজারকে আশ্রয় দেই, পরের দিন যদি দশ লাখ আসে, এটাকে আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব? দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, টাকা কে দেবে?''

রোহিঙ্গাদেরকে ঢালাওভাবে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে৷ তবে এটা ঠিক, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)'র সঙ্গে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের উগ্রপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে৷ কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, সব রোহিঙ্গাকে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী মনে করতে হবে৷

রোহিঙ্গারা এখন কোনপক্ষের কাছ থেকেই সহানুভূতি পাচ্ছে না৷ বাংলাদেশ তাদেরকে অনুপ্রবেশ করতে দিতে রাজি নয়, অন্যদিকে মিয়ানমারে ফিরে গেলে মৃত্যু অপেক্ষা করছে তাদের জন্য৷ যা জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা নিজেরাই, ‘‘আমরা সেখানে (মিয়ানমারে) ফিরে গেলে আমাদেরকে খুচিয়ে খুচিয়ে মেরে ফেলবে''৷

রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিরসনে সুস্পষ্ট কোন সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি৷ অনেকে মনে করেন, অং সান সু চি তাঁর দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সংঘাত নিয়ে খুব একটা কথা বলতে চান না৷ পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সু চি সম্ভবত চিন্তা করছেন এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে মিয়ানমারের সংখ্যা গরিষ্ঠ বৌদ্ধদের সমর্থন হারাবেন তিনি৷

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল'এর দাবি হচ্ছে মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ পশ্চিমাঞ্চলে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে৷ শুধুমাত্র তখনই বিদ্বেষপূর্ণ গুজব এবং দুইপক্ষের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সমাপ্তি ঘটতে পারে৷

প্রতিবেদন: রডিয়ন এবিগহাউজেন / এআই

সম্পাদনা: হোসাইন আব্দুল হাই

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য