1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

অশান্ত ইরাক

১০ সেপ্টেম্বর ২০১২

বেশ কিছুকাল শান্ত থাকার পর ইরাকের পরিস্থিতি আবার উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ পলাতক ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে৷

https://p.dw.com/p/1669u
ছবি: dapd

মার্কিন নেতৃত্বে সেনা অভিযানের মাধ্যমে সাদ্দাম হুসেনের পতন, তারপর একের পর এক নির্বাচন সত্ত্বেও ইরাকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিকাশ সহজ হচ্ছে না৷ শিয়া, সুন্নি, কুর্দিদের স্বার্থের সংঘাতের পাশাপাশি সংখ্যাগুরু শিয়াদের মধ্যেও রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে, যার জের ধরে প্রধানমন্ত্রী মালিকি ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আলাউয়ি জোট গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ এবার তাতে যোগ হলো সুন্নি ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আল হাশেমি'কে নিয়ে অচলাবস্থা৷ বহুকাল ধরে দেশের উপর কর্তৃত্ব চালানোর পর সংখ্যালঘু সুন্নিরা বর্তমানে নিজেদের কোণঠাসা বলে মনে করছেন৷

সোমবার ইরাকের পলাতক ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আল হাশেমি মুখ খুলেছেন৷ চলতি বছরের শুরুতেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন৷ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় তিনি বলেছেন, হত্যার অভিযোগ ও মৃত্যুদণ্ডের রায় মানতে তিনি নারাজ৷ দেশে ফেরার পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি নিরাপত্তার গ্যারেন্টি ও এমন এক আদালতের দাবি করছেন, যেখানে ন্যায্য বিচার সম্ভব৷ তিনি প্রধানমন্ত্রী মালিকি'র তুমুল সমালোচনা করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী মালিকি ও তাঁর বিচার বিভাগ এক ক্যাঙারু আদালতের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে নাটকীয় অভিযানের প্রথম পর্ব শেষ করেছে৷''

Symbolbild Combo Flaggen Irak, USA, Kurden-Irak und der irakische Ministerpräsident Nouri al-Maliki und irakische Vize Tarek Al-Haschimi
দুই প্রতিদ্বন্দ্বি, মালিকি এবং হাশেমি

এদিকে সপ্তাহান্তে ইরাকের একাধিক শহরে হামলার ফলে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮৮, আহত ৪০০রও বেশি৷ মোট ১০টি শহরে হামলার মূল লক্ষ্যই ছিল শিয়ারা৷ আল কায়েদার শাখা সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক' সোমবার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে৷ আল হাশেমি নিজে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আবেদন জানালেও কাজ হয় নি৷ তিনি এমনকি অভিযোগ তোলেন, যে মালিকির সরকার গোটা বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক সংকট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে৷

বিষয়টি এখন আর শুধু ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই৷ প্রতিবেশী সিরিয়ার সংকটের প্রেক্ষাপটে শিয়া-সুন্নি সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক মাত্রা অর্জন করছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন৷ আল কায়েদার ঘনিষ্ঠ সুন্নি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সিরিয়ায় প্রবেশ করে অরাজকতার সুযোগ নিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন৷ অন্যদিকে ইরানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শিয়া নেতা মালিকি, আলোয়াইট শিয়া সম্প্রদায়ের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে৷ সৌদি আরব সহ সুন্নি প্রধান দেশগুলি মালিকির উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ ওয়াশিংটন এমনকি অভিযোগ করছে, যে মালিকি ইরাকের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে ইরানকে সিরিয়ায় অস্ত্র পাঠানোর অনুমতি দিচ্ছে৷ মালিকি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন৷

এসবি / এসি (এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য