1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

চাঁদে বসতি স্থাপনের প্রস্তুতি চলবে

করনেলিয়া বোরমান / এসবি৫ এপ্রিল ২০১৪

মহাকাশের গভীরে পাড়ি দিতে গেলে চাঁদ এক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হয়ে উঠতে পারে৷ কিন্তু সেখানে মানুষের বসবাস সম্ভব করতে হলে চাই অক্সিজেন ও পানি৷ চাঁদেরই উপাদান থেকে সে সব সংগ্রহের লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা৷

https://p.dw.com/p/1BbuG
Mond
ছবি: Mohamad Binesh

চাঁদের মাটির উপর পরীক্ষা চালাতে রোবট কাজে লাগানো হবে৷ যেমন ‘স্পেস ক্লাইম্বার'৷ জার্মানির ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এই ‘মহাকাশ মাকড়সা' তৈরি করেছেন৷ উদ্দেশ্য, রোবট যাতে মোটামুটি স্বাধীনভাবে অসমান মাটির উপরও চলাফেরা করতে পারে৷ এমনকি চাঁদের গর্তে নেমে নমুনা সংগ্রহ করে শক্ত হাতের সাহায্যে আবার উঠে আসতে পারবে এই রোবট৷

এই গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক ফ্রাংক কিয়ার্শনর বলেন, ‘‘এতে ২৫টি মোটর রয়েছে৷ চাকাওলা যান হলে ৬টা থাকতো৷ অর্থাৎ কোনো কিছু খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও প্রায় ৪ গুণ বেশি৷ অতএব কোথাও একটা আপোশ করতে হবে৷ একদিকে যানটি স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করতে পারবে, অন্যদিকে কোনো কিছু বিকল হবার আশঙ্কাও বেড়ে যায়৷ এমন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, এটা কতটা নিরাপদ করে তোলা সম্ভব৷''

চাঁদের ভার্চুয়াল সারফেসের উপর গবেষকরা রোবটকে আরও প্রস্তুত করে তুলছেন৷ যেমন স্পেস ক্লাইম্বার-এর পা কতটা লম্বা হবে, শরীরের কোথায় তা লাগানো হবে – তা পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ উদ্দেশ্য, সে যাতে পড়ে না গিয়ে বাধা অতিক্রম করতে পারে৷ এর জন্য এমন সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতি বিচার করে তা থেকে নিজেই শিখে নিতে পারে৷ যা সত্যি কাজ করবে, শেষ পর্যন্ত সেটাই গড়ে তোলা হবে৷

তবে রোবট তো আর মানুষ নয়৷ তাই জল পান করার প্রয়োজন নেই৷ কিন্তু চাঁদে মানুষের ঘাঁটি তৈরি করতে হলে পানি ছাড়া চলবে না৷ জার্মান এয়ারোস্পেস সেন্টারের অধ্যাপক রাল্ফ ইয়াউমান বলেন, ‘‘চাঁদে পানির ব্যবস্থা করা সম্ভব৷ সৌর বাতাস থেকে হাইড্রোজেন পাওয়া যায়, যা ধুলিকণায় লেগে থাকে৷ পাথরের মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন৷ হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন দিয়েই পানি তৈরি হয়৷''

অ্যারিজোনার এক আগ্নেয়গিরির গহ্বর থেকে এসেছে এই ধূসর পাউডার৷ মিউনিখের গবেষকরা তা দিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন৷ তার রাসায়নিক গঠন ও কণার মাপ চাঁদের ধূলিকণার মতো৷ ‘অ্যাপোলো ১৪'-র নভোচারীরা সেই নমুনা পৃথিবীতে এনেছিলেন৷ বিজ্ঞানীদের স্বপ্ন হলো – হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন – ধুলিকণার এ সব উপাদানগুলিকে আলাদা করা৷ তার মধ্যে ধাতুও রয়েছে৷ হাতেনাতে সেই প্রক্রিয়া দেখানোও হচ্ছে৷

পাথর গরম করলে তা থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন বেরিয়ে আসে৷ অর্থাৎ তা দিয়ে পানি তৈরি করা যেতে পারে৷ তবে এমন যন্ত্র এখনো তৈরি হয় নি৷ মিউনিখের টেকনিকাল ইউনিভার্সিটির মাটিয়াস ফাইফার বলেন, ‘‘এক লিটার পানি বের করা সহজ নয়৷ যেমন বিষুবরেখার আশেপাশের অঞ্চলে প্রায় এক টন সূক্ষ্ম ছেঁকে নেয়া ধুলিকণা গরম করলে, তা থেকে মাত্র এক কিলো পানি পাওয়া যেতে পারে৷''

ব্যাপারটা এমন হবে৷ ঘাস কাটার যন্ত্রের মতো দেখতে বিশেষ ধরনের যান চাঁদের ধুলা জমা করবে৷ তারপর সেই ধুলা ছেঁকে নিয়ে চুল্লিতে ঢালা হবে৷ সেখানে ততক্ষণ ধরে ধুলা গরম করা হবে, যতক্ষণ না হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সহ অন্যান্য উপাদান বেরিয়ে না আসে৷ সেই গ্যাস সঙ্গে সঙ্গে চুল্লির মধ্যে পানি ও জ্বালানিতে রূপান্তরিত করে ঘাঁটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷ অধ্যাপক ইয়াউমান বলেন, ‘‘চাঁদকে আসলে আলাদা এক মহাদেশ, পৃথিবীর এক সম্পূর্ণ অচেনা মহাদেশ হিসেবে দেখা চলে৷ দশ বা বিশ বছরে না হলেও ৫০ বছরের মধ্যে চাঁদে গবেষণাগার তৈরি হবে – আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত৷''

একশো বছর আগে কুমেরু অঞ্চল যেমন মানুষের কাছে রহস্যময় ছিল, আজ চাঁদের ক্ষেত্রে তা বলা চলে৷ এক সময় চাঁদও আর অচেনা থাকবে না৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য