পরমানু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য দীর্ঘ দিন থেকেই চেষ্টা করে আসছে বাংলাদেশ৷ এই চেষ্টারই ফলাফলে কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি এজেন্সি বা আইএইএ থেকে একটি ছাড়পত্র পেয়েছে বাংলাদেশ৷
জার্মানির একটি পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র (ফাইল ফটো)
বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের উপরে৷ অবশ্য সরকার বলছে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট৷ প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে সরকার জানিয়েছে, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে তাদের পক্ষে নতুন কোন বিদ্যুত্ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব নয়৷ তাই নতুন নতুন বিকল্প উত্সের সন্ধানে রয়েছে সরকার৷ বেশ কয়েকদিন আগে আইএইএর কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাবার পর বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছে পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য৷
বাংলাদেশে চাহিদার অনুপাতে বিদুত্ উত্পাদন অনেক কম (ফাইল ফটো)
এ বিষয়ে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি মন্ত্রনালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. এম তামিম বলেন, আমরা আইএইএর কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছি৷ এখন আমাদের পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মানে কোন সমস্যা নেই৷ এখন আমরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷
জানা গেছে, পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের কারিগরী সহায়তা করার জন্য ভারতের কাছে সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ৷ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে এখন খোদ ভারতেই চলছে বির্তক৷ বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পরমানু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করতে চায়৷
ইতিমধ্যে পরমাণু ব্যবহার এবং বাংলাদেশের অবস্থান জানতে আএইইএর সঙ্গে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের আলোচনা করেছে৷ সেখানে বাংলাদেশে পরমানু বিদ্যুত্ ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে৷ আর সেখানেই এই বাংলাদেশকে পরমাণু নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মানে অনুমোদন দেয়া হয়৷
বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা এই ধরনের বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভারতের সহযোগিতা চাইবো৷ ইতিমধ্যেই ঐ দেশটির সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগযোগ করেছি৷ কারিগরি সহযোগিতা চাইতেই এই যোগাযোগ৷ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানালে ভারতের পক্ষ থেকে কারিগরী সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে তারা মনে করছেন৷
অবশ্য ভিন্ন একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য জোট সরকারের সময়ে চীনের নিউক্লিয়ার কপোর্রেশনের সাথে একটি চুক্তি হয়েছিল৷ কিন্তু সেই চুক্তির কোন বাস্তবায়ন এখনো হয়নি৷
১৯৬৩ সাল থেকে বাংলাদেশে একটি পারমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়৷ কিন্তু এত বছরেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি৷ এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য পাবনার রূপপুরে জমিও অধিগ্রহণ করা রয়েছে৷ ১৯৮০ সালে এখানে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়৷ কিন্তু সেই প্রকল্প আজও আলোর মুখ দেখেনি৷ তবে এখন সরকার যে পরিকল্পনা করছে তাতে একই স্থানে নির্মীত হবে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র৷ পর্যায়ক্রমে এই কেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাবে৷