1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ জীবন

জার্মানির মধ্যযুগের এক অসাধারণ জল ব্যবস্থাপনা এখন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট

জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য৷ সবুজে ঢাকা, আপাতদৃষ্টিতে নেহাতই সাধারণ৷ কিন্তু সেখানকার ‘আপার হার্স’ অঞ্চলে অবস্থিত একটি অনন্য জল ব্যবস্থাপনা এলাকাটিকে বসালো বিশ্ব ঐতিহ্যের আসনে৷

জার্মানির ‘আপার হার্স’ অঞ্চলে অবস্থিত এই জল ব্যবস্থাপনা এলাকাটি

রবিবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক বৈঠকে জায়গাটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' হিসেবে তালিকাভুক্ত করল ইউনেস্কো৷ ব্রাসিলিয়া শহরের সেই বৈঠকে অন্য আরো প্রায় ৩১টি আবেদনপত্র বাতিল করে, ৮৫০ বছরের পুরোনো এই জল ব্যবস্থাপনাকে বেছে নিলেন ইউনেস্কোর কর্তা ব্যক্তিরা৷ সংস্থাটির মুখপাত্র সু উইলিয়াম জানালেন, ‘‘এই বাছাই কাজ তেমন সহজ ছিল না৷'' কিন্তু তারপরও ২১ জন সদস্য বিশিষ্ট ঐ বাছাই-কমিটির সকলেই জার্মান ঐ জল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির পক্ষে এক বাক্যে তাঁদের সমর্থন দেন৷

হার্স অঞ্চলের মধ্যযুগের এই জল ব্যবস্থাপনাকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' হিসেবে তুলে ধরার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের অন্যতম পরিবেশবিদ প্রফেসর রাইনহার্ড রোসেনেক৷

ছোট-বড় ড্যাম, খাল, পুকুর, জল সংরক্ষণের জন্য মাটির নীচে রাখা বেশ কয়েকটি চৌবাচ্চা ও বড় বড় জলের চাকা দেখা যাবে এ অঞ্চলে

জার্মানির হয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে এবং তা জমা দিতে সাহায্য করেছিলেন তিনিই৷ তাঁর কথায়, ‘‘বিশ্বে এ ধরণের জল ব্যবস্থাপনা এক কথায় অতুলনীয়৷''

আর তা হবে নাই বা কেন ? প্রাক শিল্প যুগের সবচেয়ে বড় যেক'টি জ্বালানি সরবরাহকারী ব্যবস্থাপনা এখনও টিকে আছে, এটা তারই একটি৷ তৈরি করেছিলেন মধ্যযুগীয় ‘সিস্টারসিয়ান ভিক্ষু'রা৷ ছোট-বড় ড্যাম, খাল, পুকুর, জল সংরক্ষণের জন্য মাটির নীচে রাখা বেশ কয়েকটি চৌবাচ্চা ও বড় বড় জলের চাকা৷ ভূগর্ভের জলাধারগুলো একসময় খনিতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হত৷ এবং খনি থেকে কয়লা উত্তোলনই ছিল মধ্য যুগে এবং তার পরেও এলাকাটির অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধির মূল কারণ৷

মনে রাখতে হবে, নিকটবর্তী রামেলসব্যার্গ মাইন এবং ঐতিহাসিক শহর গসলার'কে ১৯৯২ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য বলে ঘোষণা করে ইউনেস্কো৷

এ অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা কম নয়

আর তার পর থেকেই এ অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ আর এবার, জল ব্যবস্থাপনার এই নিদর্শনটিকেও ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ'এর পর্যায়ে নিয়ে আসা হলো৷ তবে এর ফলে এ অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়বে কিনা তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছেনা৷ ইউনেস্কো'র জার্মান শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিটার অফেনহাউসার বলেছেন, ‘‘বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অঞ্চলটির যথাযথ সংরক্ষণ আমাদের সকলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব৷''

উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' সাইট'এর মধ্যে জার্মানির এটি ৩৪তম সংযোজন৷ বিশ্বে এ মুহূর্তে প্রায় ৮৯০টি ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' আছে৷

প্রতিবেদন: দেবারতি গুহ

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

এই ক্যাটেগরি’র আরো প্রতিবেদন

ডায়েরির পাতা থেকে