জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য৷ সবুজে ঢাকা, আপাতদৃষ্টিতে নেহাতই সাধারণ৷ কিন্তু সেখানকার ‘আপার হার্স’ অঞ্চলে অবস্থিত একটি অনন্য জল ব্যবস্থাপনা এলাকাটিকে বসালো বিশ্ব ঐতিহ্যের আসনে৷
জার্মানির ‘আপার হার্স’ অঞ্চলে অবস্থিত এই জল ব্যবস্থাপনা এলাকাটি
রবিবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক বৈঠকে জায়গাটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' হিসেবে তালিকাভুক্ত করল ইউনেস্কো৷ ব্রাসিলিয়া শহরের সেই বৈঠকে অন্য আরো প্রায় ৩১টি আবেদনপত্র বাতিল করে, ৮৫০ বছরের পুরোনো এই জল ব্যবস্থাপনাকে বেছে নিলেন ইউনেস্কোর কর্তা ব্যক্তিরা৷ সংস্থাটির মুখপাত্র সু উইলিয়াম জানালেন, ‘‘এই বাছাই কাজ তেমন সহজ ছিল না৷'' কিন্তু তারপরও ২১ জন সদস্য বিশিষ্ট ঐ বাছাই-কমিটির সকলেই জার্মান ঐ জল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির পক্ষে এক বাক্যে তাঁদের সমর্থন দেন৷
হার্স অঞ্চলের মধ্যযুগের এই জল ব্যবস্থাপনাকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' হিসেবে তুলে ধরার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের অন্যতম পরিবেশবিদ প্রফেসর রাইনহার্ড রোসেনেক৷
ছোট-বড় ড্যাম, খাল, পুকুর, জল সংরক্ষণের জন্য মাটির নীচে রাখা বেশ কয়েকটি চৌবাচ্চা ও বড় বড় জলের চাকা দেখা যাবে এ অঞ্চলে
জার্মানির হয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে এবং তা জমা দিতে সাহায্য করেছিলেন তিনিই৷ তাঁর কথায়, ‘‘বিশ্বে এ ধরণের জল ব্যবস্থাপনা এক কথায় অতুলনীয়৷''
আর তা হবে নাই বা কেন ? প্রাক শিল্প যুগের সবচেয়ে বড় যেক'টি জ্বালানি সরবরাহকারী ব্যবস্থাপনা এখনও টিকে আছে, এটা তারই একটি৷ তৈরি করেছিলেন মধ্যযুগীয় ‘সিস্টারসিয়ান ভিক্ষু'রা৷ ছোট-বড় ড্যাম, খাল, পুকুর, জল সংরক্ষণের জন্য মাটির নীচে রাখা বেশ কয়েকটি চৌবাচ্চা ও বড় বড় জলের চাকা৷ ভূগর্ভের জলাধারগুলো একসময় খনিতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হত৷ এবং খনি থেকে কয়লা উত্তোলনই ছিল মধ্য যুগে এবং তার পরেও এলাকাটির অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধির মূল কারণ৷
মনে রাখতে হবে, নিকটবর্তী রামেলসব্যার্গ মাইন এবং ঐতিহাসিক শহর গসলার'কে ১৯৯২ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য বলে ঘোষণা করে ইউনেস্কো৷
এ অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা কম নয়
আর তার পর থেকেই এ অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ আর এবার, জল ব্যবস্থাপনার এই নিদর্শনটিকেও ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ'এর পর্যায়ে নিয়ে আসা হলো৷ তবে এর ফলে এ অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়বে কিনা তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছেনা৷ ইউনেস্কো'র জার্মান শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিটার অফেনহাউসার বলেছেন, ‘‘বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অঞ্চলটির যথাযথ সংরক্ষণ আমাদের সকলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব৷''
উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' সাইট'এর মধ্যে জার্মানির এটি ৩৪তম সংযোজন৷ বিশ্বে এ মুহূর্তে প্রায় ৮৯০টি ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' আছে৷
প্রতিবেদন: দেবারতি গুহ
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক