থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ‘লাল জামা’পরিহিত সমর্থকদের দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে রবিবার প্রধানমন্ত্রী আভিসিত ভেজাজিভা আলোচনায় বসলেন আন্দোলনকারীদের তিন নেতার সঙ্গে৷
বিক্ষোভে উত্তাল এশিয়ার অন্যতম পর্যটক আকর্ষনীয় দেশ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক৷ সরকারবিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ সমাবেশ আর প্রধানমন্ত্রীর অনমনীয় মনোভাবের কারণে অচল হয়ে পড়েছে থাই রাজধানী৷ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খুবই বেসামাল অবস্থায় চলছে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য৷ বিশেষ করে ব্যাংকক থেকে দেশের অন্য স্থানগুলোতে যাচ্ছেন পর্যটকরা৷ তবে বছরের এই সময়ে যত পর্যটক থাকার কথা সেই সংখ্যা এবার খুবই কম৷
গত শনিবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ বাতিল ও আগাম নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী আভিসিত ভেজাজিভার কার্যালয় ঘেরাও করেন৷ বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ এতটাই প্রবল ছিল যে, শহরের কেন্দ্র থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী৷
রবিবার এই বিক্ষোভের মুখেই একটু অনমনীয় মনোভাব দেখালেন প্রধানমন্ত্রী ভেজাজিভা৷ জানালেন, এই সহিংস অবস্থার অবসানে তিনি বিক্ষোভকারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজী৷ আন্দোলনকারীরা যে কোন সময় বড় ধরণের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে, আর তাই নিরাপদ থাকতে প্রধানমন্ত্রী অবস্থান নিয়েছেন ব্যাংককের একটি সামরিক ঘাঁটিতে৷ সেখান থেকেই আন্দোলনকারীদের প্রতি শর্ত দিয়েছেন এই বলে যে তিনি যে সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন তার সামনে থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে যেতে হবে, তাহলেই তিনি তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজী আছেন৷
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাটি একটি টেলিভিশন স্টেশনকে জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সাথিত ওংনংটোয়ে৷ তিনি বলেন, শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সহিংসতা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করেন৷ তবে পদত্যাগ না করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী এখনো অনড় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷
এরপরই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সরাসরি সম্প্রচার হয় আন্দোলনের তিন নেতা এবং ভেজাজিভাসহ তিন সরকার দলীয় নেতার বৈঠক৷ সেখানে লালজামা আন্দোলনের নেতারা জানিয়ে দেন তাঁদের দাবি সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা৷ বলা হয়েছে এটা প্রাথমিক আলাপ৷ আগামী সোমবার আবারো তাঁরা বৈঠকে বসবেন৷
গত ১২ই মার্চ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সমর্থকরা ব্যাংককের রাস্তায় বিক্ষোভ করে আসছে৷
প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার
সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়