কাশি হওয়ার নানা কারণ থাকতে পারে৷ কাশির যেমন বিভিন্ন কারণ রয়েছে তেমনি এর প্রতিষেধকেরও রয়েছে নানা উপায়৷ তবে কার কাশির কি কারণ তা অবশ্যই ফুসফুস বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরীক্ষা করিয়ে জেনে নিতে হবে
আজকাল কাশির জন্য রয়েছে নানা রকম ভেষজ ওষুধ
কাশি যদি ৮ সপ্তাহ বা দুই মাসের বেশি থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে এটা ক্রনিক কাশি৷ তখন এর কারণ খুঁজে চিকিৎসা করাতে হবে৷ তা না হলে ক্রনিক ব্রংকাইটিস হতে পারে৷ এমনকি অ্যাস্থমার প্রাথমিক লক্ষণকেও অনেক সময় সাধারণ কাশি বলেই মনে হয়৷ সাধারণত ঠান্ডা লাগলে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসই কাশির কারণ৷
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কারো কারো প্রায় সারা বছরই কাশি লেগে আছে আর এসব ক্ষেত্রে নাকে ইনফেকশনও এর কারণ হয়ে থাকে৷ নাক বন্ধ হয়ে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়৷ আর যদি কাশির সাথে জ্বর এবং শ্বাস কষ্ট হয় তাহলে ফুসফুসে ইনফেকশন হতে পারে৷ এসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়৷
অনেক সময় দেখা যায় দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাসও কাশি ভালো হচ্ছে না৷ কাশতে কাশতে বুকে প্রচন্ড ব্যথা হয়, দম প্রায় বন্ধ হয়ে আসে৷ এই সিম্পটম আমরা অনেকেই জানি - যা আসলে হুপিং কাশি৷ বড়রা অনেকেই হুপিং কাশিকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে সাধারণ কাশি বলে ধরে নেন আর নিজের অজান্তেই তা শিশু বা ছোট বাচ্চাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন৷ কারণ কাশি ছোঁয়াচে রোগ আর মুহূর্তেই বাতাসের মধ্য দিয়ে তা ছড়িয়ে যায় বা অন্যকে সংক্রমণ করে৷ শিশু বা ছোটদের জন্য হুপিং কাশি অত্যন্ত বিপজ্জনক যা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে৷ তাই হুপিং কাশি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে প্রতিষেধক হিসেবে টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার টিকা দিতে হবে এবং পাশাপাশি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোরও ব্যবস্থা নিতে হবে৷ আর এই টিকা ১০ বছর পরে আবার দিতে হবে৷
জার্মানির মিউনিখ-এর পরিবেশ ও ফুসফুস বিশেষজ্ঞ হেলগা কামলার-বাউমান এর পরামর্শ: কাশি হলে চারদিন পরেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ, বিশেষ করে যদি রাতে কাশি বেশি হয় এবং তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়৷ ঠান্ডা লাগার ৮ সপ্তাহ পরেও যদি কাশি ভালো না হয় তাহলেই তাকে ক্রনিক কাশি হিসেবে ধরা হয়৷ আর তখন অবশ্যই এক্সরে করা প্রয়োজন৷ ঠান্ডা বা সর্দি কাশি হলে এটাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিৎ নয় কারণ এই কাশিই পরে ক্রনিক ইনফেকশনে পরিণত হয়৷
ডাক্তার হেলগা কামলার-বাউমান বলেন তবে ভয়ের কোন কারণ নেই, আজকাল কাশির জন্য রয়েছে নানা রকম ভেষজ ওষুধ৷ যা অনেক শক্ত কাশিও ভালো করতে সক্ষম৷ রয়েছে নানা রকম সিরাপ, লজেন্স - যা বিভিন্ন গাছ-গাছড়া দিয়ে তৈরি, এগুলো কফ বা গলাব্যথা সারাতে সাহায্য করে৷ কাশি হলে সন্তানসম্ভবা, বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিৎ৷
কাশির নানা কারণের মধ্যে আবহাওয়াও একটি বড় কারণ৷ রাস্তার ধুলোবালি, ময়লা, আবর্জনা, ফুলের রেণু এসবে অনেকেরই কাশি হয়, হয় অ্যালার্জি৷ তবে এই কাশির অ্যালার্জি যাদের হার্ট দুর্বল তাঁদের ক্ষেত্রেই বেশি হয়ে থাকে৷ হার্টের যথেষ্ট শক্তি না থাকায় ফুসফুস থেকে রক্ত চলাচল ঠিক মতো হয় না, ফলে কফ বসে যায় ৷ যাদের ক্রনিক কাশি রয়েছে তাদের অর্ধেকেরই কাশি হওয়ার পেছনে কোন না কোন অসুখের কারণ থাকে৷ আর তাই ডাক্তারদের পরামর্শ হচ্ছে কাশি বেশিদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই ফুসফুস বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিৎ৷
কাশি থেকে দূরে থাকতে চাইলে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে৷ কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে৷ আর অবশ্যই নিয়মিত যথেষ্ট মুক্ত বাতাস সেবন করতে হবে ৷ আর বাড়াতে হবে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা৷ শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট থাকলে কোন ভাইরাসই সহজে শরীরে ঢুকতে পারেনা৷ আর কারো শরীরে প্রবেশ করলেও সে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে৷
প্রতিবেদক : নুরুননাহার সাত্তার
সম্পাদনা : দেবারতি গুহ