জিম্বাবোয়ের কমপক্ষে ২.১৭ মিলিয়ন জনগণের জন্য খাদ্য সাহায্যের প্রয়োজন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস৷ এছাড়া এবছর ফসল উত্পাদন কম হওয়ায় এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি৷
জিম্বাবোয়ের জনগণের জন্য খাদ্য সাহায্যের প্রয়োজন
ঐ বিবৃতিতে রেডক্রস জিম্বাবোয়ের জন্য জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷ গত ডিসেম্বর থেকে এবছরের অক্টোবর পর্যন্ত জরুরী খাদ্য সরবরাহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩৩.২ মিলিয়ন ডলারের আবেদন জানানো হয়েছে৷ এসময়ের মধ্যে প্রায় দুই লক্ষ ২২ হাজার মানুষকে খাওয়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ এছাড়া বিশুদ্ধ পানির জন্য নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করা এবং আগামী চাষাবাদ মরশুমে ভাল ফল লাভের আশায় কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷
জাতিসংঘের সংস্থাগুলোও বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে অর্থ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে৷
জিম্বাবোয়ের রেডক্রস সোসাইটির মহাসচিব এমা কুন্ডিশোরা বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় ফসল উত্পাদন কম হবে৷
টেন্ডাই বিটি বললেন অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে নিজস্ব সম্পদের উপরই নির্ভর করতে হবে
যে পরিমাণ ফসল এবার পাওয়া যাবে তা দিয়ে দেশটির মোট জনগণের কেবল এক চতুর্থাংশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে তিনি বলছেন৷
জিম্বাবোয়েতে কাজ করে এমন কয়েকটি সাহায্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯-১০ মরশুমে চাষ করা ভুট্টার প্রায় ১১ শতাংশই বৃষ্টির পানির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে৷ গতমাসে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়৷
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও জিম্বাবোয়ের রেডক্রস সোসাইটি বলছে, এইচআইভি রোগে আক্রান্তরা খাদ্য সংকটে ভুগছে সবচেয়ে বেশি৷ এ রোগে আক্রান্তদের জন্য খাদ্যাভাব একটি নির্মম অভিজ্ঞতা, বলেছেন কুন্ডিশোরা৷ কারণ খাবার ছাড়া এ রোগের ওষুধগুলো রোগীদের কাছে বিষময় মনে হয়৷
উল্লেখ্য, একসময় ফসল উত্পাদনে দেশটির প্রচুর সুনাম ছিল৷ তবে ২০০০ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে সাদা কৃষকদের উত্খাত করে তাদের জমিজমা কালোদের হাতে দিয়ে দেওয়ার পর থেকে কৃষিখাতে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷
এদিকে জিম্বাবোয়ের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে নিজস্ব সম্পদের উপরই নির্ভর করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থ মন্ত্রী টেন্ডাই বিটি৷ এর কারণ হিসেবে তিনি বলছেন যে দেশটির জোট সরকারের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের আস্থা না থাকায় দাতারা সাহায্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছে৷ উল্লেখ্য, সরকারের হিসেবে, নিম্মগামী অর্থনীতিকে ঠিক করতে কমপক্ষে দশ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন৷ এর মধ্যে প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি পূরণে দাতাদের সহায়তা পাবার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন বিটি৷ তিনি বলেন, গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে ৩০ মিলিয়ন এবং চীনের কাছ থেকে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল৷ তবে এবার তাও পাওয়া যাবে না বলে বিটি মনে করছেন৷
প্রতিবেদন- জাহিদুল হক
সম্পাদনা - সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়