বলে নিচ্ছি বলিউডের কোন গল্প নয় এটি৷ ভারতের জুবায়ের আর বাংলাদেশের সাজিয়ার প্রথম পরিচয় ফেসবুকে, সেখান থেকে প্রেম৷ পরিণতিতে সাজিয়ার দেশ ত্যাগ৷ ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে তাদের, অপেক্ষায় আছে অনাগত সন্তানের৷
ইন্টারনেটে প্রেম থেকে বিয়ের গল্প শোনাতে গিয়ে ২৭ বছর বয়সি জুবায়ের জানায়, তিন বছর আগে ফেসবুকে আমাদের পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই ধীরে ধীরে প্রেমের শুরু৷ তার সঙ্গে দেখা করতে আমি চারবার ঢাকা গিয়েছি৷ সবাই এতে খুশি ছিল৷ তার বাবা, পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনও আমাকে পছন্দ করেছিল৷ কিন্তু হঠাৎই কেন যেন সব বদলে গেলো৷ সাজিয়ার বাবা আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেল৷
এরপর পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতে চলে আসে সাজিয়া৷ পরদিনই বিয়ে করে তারা৷ কিন্তু এরপরই সাজিয়ার বাবা ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে তার মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনার তদবির শুরু করেন৷
ফলে দিল্লি পুলিশ জুবায়েরের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে৷ কিন্তু বাংলা-ভারত দম্পতি আদালতে মামলার বিরুদ্ধে রিট প্রিটিশন জমা দেয় এবং জানায় পুলিশ তাদের হয়রানি করছে৷
পরবর্তীতে আদালত বার কয়েক তাদেরকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেয়৷ এরই মাঝে সাজিয়ার বাবা মামলা ঠোকেন দিল্লির আদালতে৷ তিনি দাবি তুলেছেন, তার মেয়ের এই বিবাহ বৈধ নয় কারণ ২০০৬ সালে বাংলাদেশে তার বিয়ে হয়েছিল৷
সাজিয়ার বাবার আইনজীবীও দাবি করেছেন, নকল পার্সপোর্ট আর ভূয়া ভিসা নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে সাজিয়া৷ আর তাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত৷
অবশ্য জুবায়ের জানিয়েছেন, তার স্ত্রী বৈধভাবেই ভারতে এসেছে এবং বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা৷ উল্টো জুবায়ের দাবি করছেন, সাজিয়ার বাবা এই সন্তান নষ্ট করতে চাইছে আর তাই তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন৷
কিন্তু জুবায়েরের প্রতিজ্ঞা, কোনভাবেই সে সন্তানের জন্ম রুখতে দেবে না৷
তবে শ্বশুর-জামাইয়ের এই দ্বন্দ্ব বার্তা মাধ্যমগুলো ফলাওভাবে প্রকাশ করলেও সাজিয়ার কোন মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি৷ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আপাতত নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চাইছে সে৷
প্রতিবেদক: আরাফাতুল ইসলাম
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক