1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

চলতি ঘটনা

জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশনের ২০ বছর

বিশ বছর আগে শিশু অধিকার কনভেনশন গৃহীত হয়৷ জাতিসংঘের সর্বকালের জনপ্রিয়তম কনভেনশনটির স্বাক্ষরকর্তা হল ১৯৩টি দেশ৷ কিন্তু তার বাস্তবায়নে এখনও অনেক বাধা আছে৷

২০০৭-এ জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশনে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশের হাসিনা আখতার

১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে এই অনানুষ্ঠানিক চুক্তিটির বয়ান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হবার পর পরই তা'তে স্বাক্ষর করার জন্য লাইন পড়ে যায়৷ রেকর্ড সময়ের মধ্যে কনভেনশনটি কার্যকর হয়৷ আজ বিশ বছর পরেও জনপ্রিয়তায়, অর্থাৎ স্বাক্ষরকারী দেশগুলির সংখ্যায় শিশু অধিকার কনভেনশনটি জাতিসংঘের তালিকার শীর্ষে৷ কিন্তু কনভেনশনটির বাস্তব সাফল্য নিয়ে কথা উঠলে, সেই উচ্ছ্বাস যেন কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে৷ যেমন জাতিসংঘের ১৮-সদস্য-বিশিষ্ট শিশু অধিকার কমিটির, যাদের কাজই হল নিয়মিতভাবে একক দেশগুলিতে কনভেনশনটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি যাচাই করা৷ কমিটির সদস্য সুইজারল্যান্ডের আইনবিদ জাঁ সেরমাটেন বলেন:

‘‘বহু দেশে মানুষজন শিশুদের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে, কিন্তু তা'বলে তাদের কোনো অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না৷ শিশুদের প্রতি বাৎসল্য ততোক্ষণই, যতোক্ষণ শিশু অধিকারের প্রশ্নটি না ওঠে৷ ও'ব্যাপারটাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না৷ শিশুদের প্রতি ভালোবাসার কোনো অভাব নেই, কিন্তু তাদেরও যে অধিকার আছে, সেটা উপলব্ধি করতে বড়দের অসুবিধা আছে৷ রাষ্ট্রের যে শিশুদের প্রতি নানা দায়িত্ব আছে, এ' চিন্তাটাও সর্বত্র প্রচলিত নয়৷''

রক্ষক যখন ভক্ষক হয়

শিশু অধিকার কনভেনশনের ৫৪ নম্বর ধারায় শিশু এবং ১৮ বছর বয়স অবধি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জীবনযাপনের যাবতীয় পরিস্থিতির হিসাব রাখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ সে তালিকা শুরু হয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার দিয়ে, আছে শিক্ষার অধিকার, এবং সবশেষে স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাবার, গৃহীত হবার অধিকার৷ কনভেনশনের বহু ধারার লক্ষ্য হল শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের নিগ্রহ থেকে রক্ষা করা৷ তার কারণ ব্যাখ্যা করলেন সেরমাটেন:

‘‘শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনটা প্রথমে কিছুটা খাপছাড়া মনে হলেও, স্বভাবতই বিশেষ কয়েক ধরণের প্রাপ্তবয়স্কদের শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত করা আবশ্যক৷ তার একটি চরম দৃষ্টান্ত হল শিশুশ্রম৷ অসংখ্য শিশু এইভাবে শোষণের শিকার হয়৷ এই প্রসঙ্গে শিশু দত্তক নেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসা, শিশুদের নিয়ে যৌন ব্যবসা এবং সশস্ত্র সংঘাতে শিশুসৈন্যদের নিয়োগের কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে৷''

ন্যায়বিচার পাবার অধিকার

তবে জাতিসংঘের অপরাপর মানবাধিকার কনভেনশনের সঙ্গে শিশু অধিকার কনভেনশনের মূল পার্থক্য হল এই যে, এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের মামলা করার কোনো সুযোগ নেই৷ শিশু অধিকার কমিটির বিশেষজ্ঞরা ঠিক সেটাই বদলাতে চান: শিশুদের যেন মামলা করে তাদের অধিকার আদায় করার সুযোগ থাকে৷ ইউরোপের শিশুদের যেমন এখনই আছে: তারা স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে মামলা করতে পারে৷ তবে তার অর্থ এই নয় যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশে আর শিশুদের অধিকার লঙ্ঘিত হয় না, অথবা হলেই তা শুধরানোর ব্যবস্থা করা যায়৷

প্রতিবেদক: ক্লাডিয়া ভিটে, অনুবাদ: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

এই ক্যাটেগরি’র আরো প্রতিবেদন

৫২'র ভাষা আন্দোলনে সামিল ছিলেন যারা, সেই ভাষা সৈনিকদের নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিবেশনা৷