1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

চলতি ঘটনা

তৃষ্ণার পর এবার চোখ মেললো কৃষ্ণাও

অস্ট্রেলিয়ায় ৩২ ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে আলাদা হওয়া বাংলাদেশী জোড়-যমজের দুজনই এখন ভাল আছে৷ অপারেশনের প্রায় তিনদিন পর শুক্রবার সংজ্ঞা ফিরে পেতে শুরু করে এবং চোখ মেলে তাকায় কৃষ্ণা৷

অপর বোন তৃষ্ণা এর আগেই সংজ্ঞা ফিরে পেয়েছে এবং স্বাভাবিক নড়াচড়ার পাশাপাশি কথাও বলছে৷

মেলবোর্নের রয়্যাল চিলড্রেন্স হসপিটাল এক বিবৃতিতে জানায়,‘‘কৃষ্ণা ধীরে ধীরে জেগে উঠছে৷ সে আগের চেয়ে আরও সচেতন, আরও বেশি করে শ্বাস নিতে শুরু করেছে এবং চোখ মেলে তাকাচ্ছে৷''

তারা আরও জানিয়েছে,‘‘তৃষ্ণা আগের মতোই ভাল আছে এবং দুটি মেয়েই গুরুতর তবে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে৷''

চিকিৎসকরা অবশ্য জানিয়েছেন, অপারেশনের প্রক্রিয়ায় তৃষ্ণার চেয়ে কৃষ্ণার ওপর দিয়ে বেশি চাপ যাওয়ায় সে একটু ধীরে ধীরে সেরে উঠবে৷

অপারেশনের সাফল্য আশ্চর্যজনক

অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এ অপারেশনের আগে চিকিৎসকরা বলেছিলেন, দুজনেরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র পঁচিশ ভাগ এবং দুজনেরই মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ারও আশঙ্কা প্রায় পঞ্চাশ ভাগ৷

কিন্তু, অপারেশনে সফলভাবে আলাদা হওয়া দুই বোনই সুস্থ আছে এবং স্ক্যান করে দেখা গেছে কারোরই মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয়নি৷ এ অপারেশনকে সম্ভব করে তোলা চিকিৎসকরা নিজেরাই এ সফল্যকে আশ্চর্যজনক বলে অভিহিত করছেন৷

দুই বছরের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি

মাথার খুলি, মস্তিষ্কের একটা অংশ এবং কিছু রক্তনালি একসঙ্গে জোড়া লাগা তৃষ্ণা ও কৃষ্ণা নামের এই যমজ শিশুদুটির অপারেশনের জন্য মেলবোর্নের এ হাসপাতালটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রায় দু'বছর ধরেই প্রস্তুত হচ্ছিলেন৷ এর মধ্যে তারা অপারেশনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন এবং সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে ভাবছিলেন৷ প্রয়োজন অনুসারে এ সময়ে বেশ কয়েকটি ছোট অপারেশনও করেও শিশুদুটিকে প্রস্তুত করেন তারা৷

প্লাস্টিক সার্জন টনি হোমস্ বলছিলেন, ‘‘আমাদের পরিকল্পনা এ,বি,সি ও ডি প্রস্তুত ছিল৷ এমনকী মাইক্রোসার্জনদের একটি দলও তৈরি ছিল প্রয়োজনানুসারে এসে এ প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার জন্য৷''

তিনি জানান,‘‘কিন্তু সৌভাগ্যজনকভাবে পরিকল্পনা ‘এ' সফল হয়ে যায়, যেটা অত্যন্ত আনন্দের৷''

অতিরিক্ত ত্বক ও রাবারের ম্যাট

এ অপারেশনের জন্য চিকিৎসকরা যে উচ্চপ্রযুক্তির মডেলিং অবলম্বন করেছন তাতে দারুণভাবে সহায়ক ছিল অতিরিক্ত ত্বক ও রাবারের ম্যাট৷ মেয়েদুটির মাথায় বিশেষ টিস্যু প্রতিস্থাপন করে কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত ত্বক জন্মানোর প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গেছেন তারা৷ যাতে, অপারেশনের পর খুলির কেটে ফেলা অংশ ওই ত্বক দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায়৷

একইভাবে সাধারণ রাবারের ম্যাট দিয়ে তৈরি বিশেষ বিছানা বা আসনটিও ছিল এ অপারেশনে চিকিৎসকদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক৷ তারাই বিশেষ মডেলে এ আসনটি বানিয়েছিলেন এই জোড়-যমজকে অপারশেনের এই দীর্ঘ সময় ধরে যথোপযুক্তভাবে শুইয়ে রাখতে৷

অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যেতে পারে তারা

তৃষ্ণা ও কৃষ্ণার আইনি অভিভাবকরা জানিয়েছেন চিকিৎসা এবং অন্যান্য সহায়তার কারণেই কমপক্ষে আরও দুবছর অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যেতে পারে তারা৷ এমনকী ওদের অস্ট্রেলীয় অভিভাবক ময়রা কেলি তাদের দত্তক নিতে পারেন বলেও কথা হচ্ছে৷ আর সেক্ষেত্রে তাদের সেখানে থাকাটা অনেক সহজ হবে৷ তবে অপর আইনি অভিভাবক আতম রহমান জানান এসবই নির্ভর করছে আইন এবং তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর৷

জন্মের পরপরই এই জোড়-যমজকে ঢাকার একটি এতিমখানায় দেওয়া হয়েছিল৷ কিছুদিন পর প্রায় মুমুর্ষূ অবস্থায় চিলড্রেন ফার্স্ট ফাউন্ডেশন (সিসিএফ) তাদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যায়৷

প্রতিবেদক: মুনীর উদ্দিন আহমেদ

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

ডিডাব্লিউ.ডিই

এই ক্যাটেগরি’র আরো প্রতিবেদন

৫২'র ভাষা আন্দোলনে সামিল ছিলেন যারা, সেই ভাষা সৈনিকদের নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিবেশনা৷