1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

সাঁতারু মিটবাউয়ারের গল্প

প্রাচীর পতনের ঠিক ২০ বছর আগে তাদেরই একজন - তখনকার জিডিআর জাতীয় দলের স্টার সাঁতারু আক্সেল মিটবাউয়ার - পালিয়ে আসেন৷ সে ছিল সাড়া জাগানো এক ঘটনা৷

ট্রেনার আক্সেল মিটবাউয়ারের (বামে)সাথে হানা মিলুস্কা

বার্লিন প্রাচীরের কবে পতন হবে তার অপেক্ষায় বসে থাকেন নি সাবেক কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির প্রতিটি মানুষ৷ অনেকেই পালিয়ে পশ্চিমে চলে আসার চেষ্টা করেন৷ কেউ সফল হন, কেউ বিফল৷ বিফল হলে নিশ্চিত কারাগার৷ পালিয়ে চলে আসেন যারা তাদের মধ্যে ছিলেন কিছু ক্রীড়াবিদও৷

সাঁতারের অমিত শক্তি দিয়েই আক্সেল মিটবাউয়ার পূর্ব জার্মান সীমান্তরক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে পশ্চিম জার্মানিতে পালিয়ে আসতে পেরেছিলেন৷ ফেলে এসেছিলেন লৌহ যবনিকা৷ তাঁর বয়স তখন মাত্র ১৯৷ ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে জাতীয় চাম্পিয়ন তিনি৷ চল্লিশ বছর আগে ১৯৬৯ সালের ১৭ আগস্ট রাতের বেলা আক্সেল মিটবাউয়ার বাল্টিক সাগরের বল্টেনহাগেন স্পা থেকে ২৫ কিলোমিটার সাঁতরে এসে পৌঁছান পশ্চিমের ল্যুবেক বে-তে৷

পূর্ব জার্মানি থেকে পশ্চিমে পালিয়ে আসার একটা প্রিয় রুট ছিল বাল্টিক সাগর৷ ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ৫০০০ এরও বেশি পূর্ব জার্মান নাগরিক এই পথে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেন৷ তাই সীমান্তরক্ষীদের প্রখর দৃষ্টি ছিল সেখানে৷ মিটবাউয়ার এক সপ্তাহ ধরে তাদের কাজকর্ম লক্ষ্য করেন খুঁটিয়ে৷ তিনি দেখতে পান, এক ঘন্টা পর পর সীমান্ত চৌকির সার্চলাইটটাকে ঠাণ্ডা করার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ রাত যখন ন'টা সাগরে ঝাঁপ দিলেন আক্সেল মিটবাউয়ার৷ হঠাৎ দেখেন, সার্চলাইটের আলো তাঁর ওপর পড়তে চলেছে৷ অমনি টুপ করে ডুব দিলেন তিনি৷

প্রাচীর পতনের ২০ বছর আগে স্টার সাঁতারু আক্সেল মিটবাউয়ার - পালিয়ে আসেন

সাঁতরে কাভার করলেন ২৫ কিলোমিটার পথ৷ ঠাণ্ডায় ৬/৭ ঘন্টা সাঁতরাতে তাঁর কষ্ট হয়েছিল বৈকি৷ তার জন্য গায়ে ভেসেলিন মেখে নিয়েছিলেন৷ ভয়ও ছিল মনে৷

সাবেক পূর্ব জার্মান রাষ্ট্রের প্রচারণা আর সেখানকার বাস্তব অবস্থার মধ্যকার ফারাকটা তাঁকে সচেতন করে তুলেছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি পালিয়ে আসতে চেয়েছিলাম কেননা ঐ রাষ্ট্রের অন্যায় ব্যবস্থাটা আমার চেনা হয়ে গিয়েছিল৷ তাই সেখান থেকে মুক্তি পেতে কার্যত স্পোর্টসম্যান হিসেবে আমার শক্তিটাকেই আমি ব্যবহার করেছি৷ ব্যবহার করেছি আমার লক্ষ্য বাস্তবায়িত করার কাজে৷''

১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ছ'শরও বেশি ক্রীড়াবিদ পূর্ব জার্মানি থেকে পালিয়ে আসেন পশ্চিমে৷ তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফুটবল খেলোয়াড়, সাইকেল রেসার, ট্রেনার৷ সাঁতারু আক্সেল মিটবাউয়ারের ওপর অবশ্য সেখানকার কুখ্যাত গোয়েন্দা দপ্তর স্টাসির চোখ ছিল আগে থেকেই৷ অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার সময় পশ্চিম জার্মানির ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন৷ পূর্ব বার্লিনের স্টাসি করাগারের অন্ধকার সেলে সাত সপ্তাহ কাটাতে হয় তাঁকে৷

পশ্চিমে এসেই আক্সেল মিটবাউয়ার তাঁর পালিয়ে আসার কাহিনী বিক্রি করে দেন সাপ্তাহিক স্ট্যার্ন ম্যাগাজিনকে - ১০ হাজার ডয়েচ মার্কে৷

প্রতিবেদন: মার্কুস বোউল্স, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক, সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

এই ক্যাটেগরি’র আরো প্রতিবেদন