1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পুনরএকত্রিত জার্মানি

বিটারফেল্ডের অভূতপূর্ব রূপান্তর

বার্লিন প্রাচীর যখন ভাঙ্গল তখন চ্যান্সেলর হেলমুট কোল ভবিষদ্বাণী করেছিলেন যে পূর্ব জার্মানি হবে বিপুল প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল৷ ২০ বছর পর তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে রূপান্তরিত করেছে বিটারফেল্ড৷

বিটারফেল্ডের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে কখনোই ক্লান্ত বোধ করেন না হর্স্ট টীশার৷ ৬৯ বছর বয়স্ক এই সিটি মেয়র জানান, নিঃসন্দেহে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটেছে এই শহরের৷ প্রাক্তন প্রকৌশলী টীশারের এখনো মনে পড়ে কি দূষিতই না ছিল সাবেক পূর্ব জার্মানির এই শহরটি ৷

তিনি অবশ্য স্বীকার করছেন যে বেকার সমস্যা এখনো রয়েছে সেখানে৷ তবে তিনি শহরটির ইতিবাচক দিক নিয়েই আলোচনা বা কথা বলতে বেশি আগ্রহী৷ যেমন, গোয়েৎসে খনি৷ প্লাবিত করা হয় এই জায়গাটা এবং পরে তা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি লেকে পরিণত করা হয়৷ এর ফলে শহরটির সৌন্দর্যও বাড়ে৷

কাজের উদ্দেশ্যে শহর ছেড়ে চলে যাওয়া

বাস্তবে, বিটারফেল্ড দুই জার্মানির একত্রীকরণের পর বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় জর্জরিত ছিল৷ ১৯৯০ সালে বেকারত্ব চরমে পৌছায়৷ প্রতি চারজনের মধ্যে একজন ছিল বেকার৷ এর ফলে পশ্চিমে পাড়ি দেয় অনেকেই৷ বিশেষ করে দলে দলে নতুন প্রজন্ম চলে যায় বিটারফেল্ড ছেড়ে, এই ঘটনা এখনো ঘটছে৷

টীশার স্বীকার করেন, এটি শহরের জন্য নিঃসন্দেহে চিন্তার কারণ৷

বিটারফেল্ডে জনসংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে৷ তা আটকাতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেশ কিছু শহরকে একসঙ্গে যোগ করার৷ ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে বিটারফেল্ড শহর হিসেবে মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়, শহরটিকে যুক্ত করা হয় ওলফেন, গ্রেপিন, হল্সভাইসিশ, থালহাইম এবং রোডগেনের সঙ্গে এবং নাম দেয়া হয় বিটারফেল্ড-ওলফেন৷ বর্তমানে এ দুটি শহরের জনসংখ্যা ৪৫ হাজার৷ ১৯৮৯ সালে শুধু ওলফেন শহরের জনসংখ্যাই ছিল এর কাছাকাছি৷

আলোকিত দিক

মেয়র হর্স্ট টীশার উজ্জ্বল দিকগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করতে চান৷ এবং নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আলোকিত দিক হল বিটারফেল্ড-ওলফেন কেমিক্যাল পার্ক৷ বারোশো হেক্টরের পুরোটাই৷ আয়তনে পার্কটি বিটারফেল্ডের চেয়ে বড় এবং ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ইউরো এর পেছনে খরচ করা হয়েছে৷

ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কেমিক্যাল পার্কটি সফল হয়েছে, এবং বর্তমানে সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, ফ্রান্স, সুইডেন, আমেরিকা এবং জাপানের প্রায় ৩৬০ টি কোম্পানির অফিস সেখানে রয়েছে৷ এছাড়া রয়েছে আকজো নোবেল, বায়ার এবং এভনিক৷ এই কোম্পানিগুলোর উপস্থিতির ফলে প্রায় ১১ হাজার মানুষকে কাজের সুযোগ করে দেয়া গেছে৷

বিশেষ একটি কোম্পানি সফল হয়েছে এবং সাফল্য দেখিয়েছে ভীষণভাবে৷ সিলিকন সোলার সেল তৈরি করার জন্য কিউ সেল কোম্পানি ২০০১ সালে মাত্র ১৯ জন কর্মী নিয়ে তার যাত্রা শুরু করে৷ ছয় বছর পর কিউ সেলের কর্মী সংখ্যা দাঁড়ায় সতেরশোতে৷ বিটারফেল্ডের এই কিউ সেল কোম্পানি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোলার সেল উৎপাদনকারী কোম্পানি৷

অবাক হওয়ার কিছু নেই, এই গতিতে সাফল্য পাওয়ায় স্যাক্সনি রাজ্যের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী রাইনার হাজেলহফ অত্যন্ত প্রসন্ন৷ তিনি খুশি হয়ে কোম্পানিকে পুরস্কৃত করেছেন, সাকসেস স্টোরি – মেড ইন স্যাক্সনি পুরস্কারে৷

হাজেলহফ বিশ্বাস করেন, অন্য কোম্পানিগুলোও কিউ সেলের পদক্ষেপ অনুসরণ করবে৷ তিনি আশা করছেন হয়তো ২০১০ সালের মধ্যে আরো অন্তত পাঁচ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে এই সোলার ভ্যালিতে, যা বিটারফেল্ডের অদূরে অবস্থিত৷

প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়া

কিন্তু হর্স্ট টীশার সবাইকে জানাতে চান যে শুধু কাজ এবং খেলাধুলা করে বিটারফেল্ডে সময় কাটানো হয় না৷ ইদানিং যে কারো হাতে সময় থাকলে সে চলে যায় কৃত্রিম উপায়ে তৈরি গোয়েৎসে লেকের ধারে৷

বেশ কয়েক দশকে ধরে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন গোয়েৎসে খনিতে খননের ফলে রয়ে গেছে বিশাল বিশাল গর্ত এবং উঁচু নিচু ঢিবি৷ ৯০ এর শেষের দিকে গোয়েৎসে খনিতে কাজ করা হয় ভিন্নভাবে, খনিকে জুড়ে দেয়া হয় চারটি বড় লেকের সঙ্গে, প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর এলাকায়৷ লেকের আশ পাশ দিয়েই ছুটি কাটাবার জায়গা, রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে৷ এমনকি ইদানিং শোনা যাচ্ছে বিটারফেল্ড রিভিয়েরা বা সৈকত তৈরির কথা৷

প্রশ্ন, ১৯৮৯ সালে চ্যান্সেলর হেলমুট কোল, জার্মানির পূর্বাঞ্চল প্রাচু্র্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে বলে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বিটারফেল্ড কি তার কোন উদাহরণ ? পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং দুই জার্মানির একত্রীকরণের কঠিন সময় পার হয়ে হর্স্ট টীশার আজ আর রাজনৈতিক বুলি নিয়ে কথা বলতে চান না কিন্তু শহরটির ইতিবাচক পরিবর্তনে তিনি অত্যন্ত গর্বিত৷

তিনি জানান, আজকের অবস্থার সঙ্গে যদি অতীতের তুলনা করা যায় তাহলে দেখা যাবে- বিটারফেল্ড কি অভূতপূর্ব এক শহরে রূপান্তরিত হয়েছে৷

ভাষান্তর: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

এই ক্যাটেগরি’র আরো প্রতিবেদন