1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংস্কৃতি বিনোদন

গ্যুন্টার গ্রাস-এর ক্লাসিক উপন্যাস ‘টিন ড্রাম’-এর ৫০ বছর

বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে নোবেলজয়ী জার্মান লেখক গ্যুন্টার গ্রাস খুব অল্প সংখ্যক লেখকদেরই একজন যিনি তাঁর প্রথম উপন্যাসেই সাড়া ফেলে দেন৷

ল্যুবেক শহরে ১৩ সেপ্টেম্বর প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে নিজের তৈরি ভাষ্কর্যের সামনে গ্যুন্টার গ্রাস

‘ডি ব্লেশট্রমেল' - 'টিন ড্রাম' তাঁর সেই আকর উপন্যাস, যা আধুনিক সাহিত্যের এক ক্লাসিক নিদর্শন হিসেবে খ্যাত, নন্দিত৷ ৫০ বছরে পড়ল এবার ‘টিন ড্রাম'৷

‘টিন ড্রাম' উপন্যাস যখন লিখছেন গ্যুন্টার গ্রাস প্যারিস শহরে, তখন তাঁর বয়স ৩২ বছর৷ নাৎসি সন্ত্রাসের আবহে লেখা এই বই-এর কিছু অধ্যায় তিনি পড়ে শোনান ৪৭-এর গ্রুপ বলে পরিচিত জার্মান লেখক গোষ্ঠীর সামনে৷ প্রশংসার বন্যা বয়ে যায় লেখক মহলে৷ তারপর ১৯৫৯ সালে যখন প্রকাশিত হল উপন্যাস বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে তার স্থান করে নিতে সময় লাগে নি৷ ‘টিন ড্রাম'-এর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষেই উত্তর জার্মানির ল্যুবেক শহরে গ্যুন্টার গ্রাস ভবনে শুরু হয়েছে এক অভিনব প্রদর্শনী -‘একটি গ্রন্থ একটি ইতিহাস'৷

ব্লেশট্রমেল উপন্যাস নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রের একটি প্ল্যাকার্ড

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অস্কার মাৎসেরাঠ মাত্র তিন বছর বয়সে তার পরিপার্শ্বের অশনি সংকেত-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল যে সে আর বাড়বে না৷ বয়স বাড়ে কিন্তু অস্কারের দেহ বাড়ে না৷ মাঝে মাঝেই তার প্রতিবাদ মূর্ত হয়ে ওঠে তার প্রিয় টিনের বাদ্যির শব্দে৷ হিটলারি নাৎসি বর্বরতার অবসান ঘটার পনেরো বছর পর যখন যুদ্ধোত্তর ফেডারেল জার্মানি তার বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচনা ঘটাতে ব্যস্ত, তখন গ্রাস জার্মানির সামনে তুলে ধরেন এক আয়না৷ কোনরকম দ্বিধা না রেখে জার্মান ইতিহাসের অতলস্পর্শী এক পতনের অধ্যায় চোখ মেলে দেখতে সবাইকে বাধ্য করেন৷

একথা অনেকেই স্বীকার করবেন যে ১৯৪৫ সালের পর আর কোন জার্মান উপন্যাস নিয়ে সারা বিশ্বে এত বেশি আগ্রহ লক্ষ করা যায় নি যেমনটি দেখা গেছে 'টিন ড্রাম'-এর ক্ষেত্রে৷ ১৯৮৯ সালে যখন নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেলেন গ্যুন্টার গ্রাস, নোবেল কমিটি এই উপন্যাসটির অনুষঙ্গ বিশেষভাবে উল্লেখ করতে ভোলেন নি৷ চল্লিশটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে ‘ডি ব্লেশট্রমেল'৷ বিক্রি হয়েছে তার ৪০ লাখেরও বেশি কপি৷ প্রখ্যাত জার্মান চলচ্চিত্রকার ফলকার শ্ল্যোয়েনডর্ফ এই কাহিনী নিয়ে ছবি করেন এবং তা পায় সেরা বিদেশি ছবি হিসেবে অস্কার৷

‘টিন ড্রাম'-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীতে তিনটি শহর উপস্থিত - ডানজিগ, ড্যুসেলডর্ফ আর প্যারিস৷

ব্লেশট্রমেল ছবির মূল চরিত্র অস্কার-একটি বামন মেয়ের সঙ্গে

উপন্যাসে এবং লেখকের জীবনে তিনটি শহরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে৷ ডানজিগ অর্থাৎ আজকের পোল্যান্ডের গদানস্ক শহরে ১৯২৭ সালের ১৬ অক্টোবর গ্রাস-এর জন্ম৷ তাঁর ‘টিন ড্রাম' উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র অস্কারের জন্মও এই শহরে৷ এখান থেকেই কাহিনীর শুরু৷ উপন্যাসের তৃতীয় পর্বের ঘটনাস্থল যুদ্ধোত্তর জার্মানির ড্যুসেলডর্ফ শহর৷ এই শহরের শিল্পকলা একাডেমীতেই গ্রাস চারু ও করুকলার তালিম নেন৷ আর ফরাসি মহানগরী প্যারিসেই অত্যন্ত দূরূহ আর্থিক অবস্থার মধ্যে তিনি লেখেন ‘টিন ড্রাম'৷ উপন্যাস প্রকাশিত হবার পর প্রাথমিক পর্বে গ্রাসকে দেশের রক্ষণশীল মহল ও কোন কোন চার্চ প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রচুর গালমন্দ শুনতে হয়৷ তবে তখনকার নামী লেখকদের কাছ থেকে এ উপন্যাস পায় অকুন্ঠ প্রশংসা৷ গ্রাস নিজে অবশ্য মনে করেন, ‘টিন ড্রাম' তাঁর সফলতম বই হলেও প্রিয়তম নয়৷ আমার কাছে ‘টিন ড্রাম'-এর চেয়েও প্রিয় ‘হুন্ডেইয়ারে' - ‘ডগইয়ার্স', বলেছেন গ্রাস৷

ল্যুবেক-এর প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ‘টিন ড্রাম'এর প্রথম খসড়া পান্ডুলিপি৷ পাওয়া যাবে এই উপন্যাসের বই হয়ে ওঠার কাহিনী৷ আছে বিংশ শতকের এই গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত অসংখ্য নিদর্শন৷ রয়েছে ঐতিহাসিক পটভূমির উপস্থিতি৷ আছে লেখকের আঁকা রেখাচিত্র এবং তাঁর ভাস্কর্যের কাজ৷ গ্যুন্টার গ্রাস ভবনে এই প্রদর্শনী চলবে ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত৷

প্রতিবেদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

এই ক্যাটেগরি’র আরো প্রতিবেদন