1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ফের উত্তপ্ত গাজা, ইসরায়েলি সেনা হামলায় নিহত ১৪ ফিলিস্তিনি

২৫ অক্টোবর ২০০৪

গাজা ভূখন্ড থেকে ইহুদি শরণার্থী অপসারণ বিষয়ক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল শারোণের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর ইসরায়েলি সংসদে ভোটাভুটির মুখে গতকাল ১৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরায়েলি বাহিনী৷ গাজা ভূখন্ডে সেনা মোতায়েন রাখার শারোণ সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরো

https://p.dw.com/p/DPzS
ছবি: AP

ধী নেতা সিমন পেরেজ৷

নৃশংসতার আরও একটি বড়োসড়ো নজির সোমবার তৈরি করল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী৷ বস্তুত রোববার রাত থেকেই গাজার খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক এবং হেলিকপ্টারবাহিনী৷ খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরটি মূলত ফিলিস্তিনি শরণার্থী অধ্যুষিত৷ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং ইসলামি ধর্মযাজকদের ভাষায়, ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় রাতের মধ্যেই নিহত হন সাতজন ফিলিস্তিনি নাগরিক৷ এদের মধ্যে তিনজন ছিলেন রাতপ্রহরার পুলিশকর্মী৷ ইসরায়েলি ট্যাঙ্কবাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়, আর ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করে পাঁচজন ফিলিস্তিনিকে৷ নিহত এই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছে মাত্র এগারো বছর বয়সী একটি বালক৷ একাধারে ট্যাঙ্ক এবং হেলিকপ্টার হামলায় আহত হন ৭৪ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক৷ নিহত ১৪ জন ফিলিস্তিনির মধ্যে আটজনের পরিচয় এ পর্যন্ত জানা যায়নি৷ ইসরায়েলি বাহিনীর তরফে এই হামলার কারণ ব্যখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়, ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির থেকে স্থানীয় ইহুদি বসতির ওপর ক্রমাগত চলতে থাকা মর্টার হামলা রুখতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে৷

ওদিকে গাজা ভূখন্ডের সমস্যা দূরীভূত করতে গাজার মোট কুড়িটি এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের একশো কুড়িটি ইহুদি বসতি শিবির আগামী ২০০৫ সালের মধ্যে সরিয়ে আনার যে নতুন পরিকল্পনা ইসরায়েলের আরিয়েল শারোণ প্রশাসন গ্রহণ করেছে, সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবতা নিয়ে ইসরায়েলি সংসদে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ দুদিনের বিতর্কের পর আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা৷ শারোণ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তটিকে ঘিরে নানা দৃষ্টিভঙ্গী ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ শুধুমাত্র গাজা ভূখন্ডের বিশটি ইহুদি বসতি অঞ্চলে বর্তমানে বাস করেন মাত্র আট হাজার ইহুদি নাগরিক৷ পক্ষান্তরে গাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলিতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের মোট সংখ্যা ১৩ লক্ষের কিছু বেশী৷ গাজা থেকে ইহুদি বসতি সরিয়ে দেবার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তটিকে নিজেদের দীর্ঘদিনের জঙ্গী আন্দোলনের বিজয় বলে মনে করছে ফিলিস্তিনি জঙ্গী সংগঠনগুলির একাংশ৷ পাশাপাশি অধিকৃত গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ভূখন্ডের দখল ত্যাগ করার প্রশ্নে ইসরায়েলি নাগরিকদের অনেকেই গররাজি৷ গাজা এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের সুপ্রাচীন ইহুদি ধর্মীয় অঞ্চলগুলির দখলত্যাগেই তাঁদের আপত্তি স্পষ্ট৷ যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট শারোণ প্রশাসন ঠিক যে ভাবে অধিকৃত অঞ্চলত্যাগের ছক কষেছে তাতে প্রস্তাবিত সার্বভৌম প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের সীমানা এবং স্বার্থ, দুইই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন আশংকা প্রকাশ করে চলেছেন ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞরা৷


আবার শারোণ সরকারের বিরোধীদের মুখে শোনা যাচ্ছে ইসরায়েল সরকারের অধিকৃত ভূখন্ড প্রসঙ্গে গৃহীত সিদ্ধান্তের অন্যধরণের সমালোচনা৷ গতকাল সোমবার জেরুজালেমে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ইসরায়েল সংসদের প্রধান বিরোধী নেতা সিমন পেরেজ বলেছেন, সংসদে ভোটাভুটিতে হেরে গিয়ে শারোণ প্রশাসন যদি গাজা ভূখন্ডের ইহুদি শিবির সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করে, সেক্ষেত্রে ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অনিবার্য৷ হয়তো বা ফের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হতে পারে৷ পেরেজের মতে, গাজায় যা পরিস্থিতি, তাতে সেখানকার ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য বাসিন্দা প্রতি দুইজন করে সৈন্য মোতায়েন করেছে শারোণ প্রশাসন৷ যে ব্যয় নির্বাহ করা রীতিমতো কষ্টসাধ্য৷ এ ক্ষেত্রে সংসদীয় ভোটে শারোণ প্রশাসনকে যেভাবেই হোক এই সিদ্ধান্তের সমর্থন আদায় করতে হবে বলে মন্তব্য করেন পেরেজ৷

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়