
বলা হয়, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস৷ আবারও সেটা প্রমাণিত হলো৷ জার্মানির একটি শহরের মেয়রকে গদিচ্যুত হতে হলো জনগণের কারণেই৷ সোমবার ডুইসবুর্গে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট৷ তাতে মেয়রকে সরানোর পক্ষে ভোট দেন প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার মানুষ৷
২০১০ সালের ২৪ জুলাই৷ জার্মানির ডুইসবুর্গ শহরে আয়োজন করা হয়েছিল সঙ্গীত উৎসব ‘লাভ প্যারেড'৷ তাতে অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন লাখ লাখ তরুণ তরুণী৷ আর সেটাই কাল হয়৷ সেখানে এত বেশি মানুষের ভিড় হয় যে, পরিস্থিতি এক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়৷ এতে পদপিষ্ট হয়ে মারা যায় ২১ জন৷ এর মধ্যে স্পেন, বসনিয়া, নেদারল্যাণ্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ইটালি ও চীনের একজন করে নাগরিকও ছিলেন৷
এই ঘটনায় শোক ছড়িয়ে পড়ে সারা জার্মানিতে৷ প্রশ্ন ওঠে, ঐ ছোট্ট জায়গায় কেন এত লোকের অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল৷ ফলে মেয়র আডল্ফ জাওয়ারলান্ডের পদত্যাগের দাবি ওঠে৷ তাঁর দলের লোকজনও তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল৷ কিন্তু কারও কথা শোনেন নি তিনি৷ থেকে যান স্বপদে৷
কিন্তু জনতার সেটা পছন্দ হয়নি৷ তাই ক্ষণে ক্ষণেই দাবি উঠছিল মেয়রের পদত্যাগের৷ অবশেষে সোমবার ডুইসবুর্গে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট৷ তাতে মেয়রকে সরানোর পক্ষে ভোট দেন প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার মানুষ৷ আর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র সাড়ে ২১ হাজার৷ ফলে অবশেষে সরে যেতে হলো মেয়রকে৷
আডল্ফ জাওয়ারলান্ড
সাধারণ মানুষের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷ যেমন সামাজিক গণতন্ত্রী, গ্রিন পার্টি ও বাম দল৷ উল্লেখ্য, জাওয়ারলান্ড জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী দলের সদস্য ছিলেন৷
ডুইসবুর্গ শহরটি জার্মানির ষোলটি রাজ্যের একটি নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত৷ এই রাজ্যটি নতুন একটি আইন চালু করেছে৷ এর ফলে কোনো শহরের জনগণ চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট দিয়ে তাদের মেয়রকে হটিয়ে দিতে পারে৷
ডুইসবুর্গের নাগরিক উদ্যোগের নাম ছিল ‘নিউ স্টার্ট ফর ডুইসবুর্গ' অর্থাৎ নতুন করে ডুইসবুর্গের শুরু৷
সাধারণ জনগণের এই সাফল্য সম্পর্কে বার্লিন ভিত্তিক ‘ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর সিভিল সোসাইটি'র প্রধান আনজগার ক্লাইন বলেন, এর ফলে জার্মানির অন্যান্য রাজ্যের লোকজনও তাদের মেয়র পরিবর্তনের ক্ষমতা চাইতে পারবে৷ এজন্য পৌর সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবে তারা৷
ক্লাইন বলেন, গণতন্ত্র মানে শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন নয়৷ এমন একটা পদ্ধতি থাকা উচিত যার মাধ্যমে বিশেষ ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও সরানো যাবে৷
ডুইসবুর্গের মতো আরও কিছু বিষয় নিয়ে জার্মানিতে সম্প্রতি তুমুল আলোচনা আর বিতর্ক হয়েছে৷ যেমন স্টুটগার্টে নতুন রেল স্টেশন নির্মাণ নিয়ে হয়েছে বিক্ষোভ৷ এছাড়া ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিয়মিত বিমান ওঠানামার কারণে যে শব্দ দূষণ হয় তারও প্রতিবাদ হয়েছে৷
ডুইসবুর্গের ঘটনার পর লাভ প্যারেড আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়৷ ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভাঙার চারমাস আগে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছিল এই প্যারেডের৷ বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনাই ছিল এর লক্ষ্য৷ মূলত, তা হয়ে উঠেছিল এক নাগরিক আন্দোলন – যার হাতিয়ার ছিল গান আর নাচ৷
শুরু থেকে ২০০৩ পর্যন্ত বার্লিনেই আয়োজিত হয়েছে এই উৎসব৷ এরপর ২০০৪ ও ২০০৫ সালে বিভিন্ন কারণে লাভ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়নি৷ কিন্তু ২০০৬ সালে আবার শুরু হয়েছিল এর আয়োজন৷ তবে সেটা বার্লিনে নয় অন্য কোনো শহরে৷
প্রতিবেদন: জাহিদুল হক
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক
ই-মেল অথবা এসএমএস পাঠিয়ে খুব দ্রুত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন৷
ই-মেল: bengali@dw.de
এসএমএস: +88.0173.0302.205
এসএমএস: +91.9830.997232
ভয়েস মেল: +49.228.429-164158
ফ্যাক্স. +49.228.429-154158