1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

চলতি ঘটনা

জনগণের ক্ষমতার কাছে হার মানলেন জার্মানির এক মেয়র

বলা হয়, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস৷ আবারও সেটা প্রমাণিত হলো৷ জার্মানির একটি শহরের মেয়রকে গদিচ্যুত হতে হলো জনগণের কারণেই৷ সোমবার ডুইসবুর্গে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট৷ তাতে মেয়রকে সরানোর পক্ষে ভোট দেন প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার মানুষ৷

২০১০ সালের ২৪ জুলাই৷ জার্মানির ডুইসবুর্গ শহরে আয়োজন করা হয়েছিল সঙ্গীত উৎসব ‘লাভ প্যারেড'৷ তাতে অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন লাখ লাখ তরুণ তরুণী৷ আর সেটাই কাল হয়৷ সেখানে এত বেশি মানুষের ভিড় হয় যে, পরিস্থিতি এক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়৷ এতে পদপিষ্ট হয়ে মারা যায় ২১ জন৷ এর মধ্যে স্পেন, বসনিয়া, নেদারল্যাণ্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ইটালি ও চীনের একজন করে নাগরিকও ছিলেন৷

এই ঘটনায় শোক ছড়িয়ে পড়ে সারা জার্মানিতে৷ প্রশ্ন ওঠে, ঐ ছোট্ট জায়গায় কেন এত লোকের অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল৷ ফলে মেয়র আডল্ফ জাওয়ারলান্ডের পদত্যাগের দাবি ওঠে৷ তাঁর দলের লোকজনও তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল৷ কিন্তু কারও কথা শোনেন নি তিনি৷ থেকে যান স্বপদে৷

কিন্তু জনতার সেটা পছন্দ হয়নি৷ তাই ক্ষণে ক্ষণেই দাবি উঠছিল মেয়রের পদত্যাগের৷ অবশেষে সোমবার ডুইসবুর্গে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট৷ তাতে মেয়রকে সরানোর পক্ষে ভোট দেন প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার মানুষ৷ আর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র সাড়ে ২১ হাজার৷ ফলে অবশেষে সরে যেতে হলো মেয়রকে৷

আডল্ফ জাওয়ারলান্ড

সাধারণ মানুষের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷ যেমন সামাজিক গণতন্ত্রী, গ্রিন পার্টি ও বাম দল৷ উল্লেখ্য, জাওয়ারলান্ড জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী দলের সদস্য ছিলেন৷

ডুইসবুর্গ শহরটি জার্মানির ষোলটি রাজ্যের একটি নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত৷ এই রাজ্যটি নতুন একটি আইন চালু করেছে৷ এর ফলে কোনো শহরের জনগণ চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট দিয়ে তাদের মেয়রকে হটিয়ে দিতে পারে৷

ডুইসবুর্গের নাগরিক উদ্যোগের নাম ছিল ‘নিউ স্টার্ট ফর ডুইসবুর্গ' অর্থাৎ নতুন করে ডুইসবুর্গের শুরু৷

সাধারণ জনগণের এই সাফল্য সম্পর্কে বার্লিন ভিত্তিক ‘ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর সিভিল সোসাইটি'র প্রধান আনজগার ক্লাইন বলেন, এর ফলে জার্মানির অন্যান্য রাজ্যের লোকজনও তাদের মেয়র পরিবর্তনের ক্ষমতা চাইতে পারবে৷ এজন্য পৌর সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবে তারা৷

ক্লাইন বলেন, গণতন্ত্র মানে শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন নয়৷ এমন একটা পদ্ধতি থাকা উচিত যার মাধ্যমে বিশেষ ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও সরানো যাবে৷

ডুইসবুর্গের মতো আরও কিছু বিষয় নিয়ে জার্মানিতে সম্প্রতি তুমুল আলোচনা আর বিতর্ক হয়েছে৷ যেমন স্টুটগার্টে নতুন রেল স্টেশন নির্মাণ নিয়ে হয়েছে বিক্ষোভ৷ এছাড়া ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিয়মিত বিমান ওঠানামার কারণে যে শব্দ দূষণ হয় তারও প্রতিবাদ হয়েছে৷

ডুইসবুর্গের ঘটনার পর লাভ প্যারেড আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়৷ ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভাঙার চারমাস আগে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছিল এই প্যারেডের৷ বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনাই ছিল এর লক্ষ্য৷ মূলত, তা হয়ে উঠেছিল এক নাগরিক আন্দোলন – যার হাতিয়ার ছিল গান আর নাচ৷

শুরু থেকে ২০০৩ পর্যন্ত বার্লিনেই আয়োজিত হয়েছে এই উৎসব৷ এরপর ২০০৪ ও ২০০৫ সালে বিভিন্ন কারণে লাভ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়নি৷ কিন্তু ২০০৬ সালে আবার শুরু হয়েছিল এর আয়োজন৷ তবে সেটা বার্লিনে নয় অন্য কোনো শহরে৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

dw.de

৫২'র ভাষা আন্দোলনে সামিল ছিলেন যারা, সেই ভাষা সৈনিকদের নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিবেশনা৷

যোগাযোগ

ই-মেল অথবা এসএমএস পাঠিয়ে খুব দ্রুত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন৷

ই-মেল: bengali@dw.de

এসএমএস: +88.0173.0302.205

এসএমএস: +91.9830.997232

ভয়েস মেল: +49.228.429-164158

ফ্যাক্স. +49.228.429-154158