
এর নাম ‘টারসিয়ার’৷ পুরো নাম – ‘টারসিয়াস সাইরিচটা'৷ বিশ্বের সর্বক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণী এটি৷ বাস ফিলিপাইন্সে৷ অতি সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, ‘টারসিয়ার’ ‘আল্ট্রাসাউন্ড’ প্রক্রিয়ায় কথা বলতে পারে৷
আকারে মানুষের হাতের চেয়ে বড় হবে না৷ গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই প্রাইমেট প্রজাতিরা একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে শব্দ শুনতে পারে এবং শব্দ বেরও করতে পারে৷ ফলে সেই ফ্রিকোয়েন্সি হয়ে ওঠে কার্যত তার ‘প্রাইভেট চ্যানেল’৷ আর এই চ্যানেল মারফত টারসিয়ার সতর্ক সংকেত দিতে পারে৷ রাতের খাবার হিসেবে ঝিঁঝিঁ পোকার সন্ধানে লেগে যেতে পারে৷
এতোদিন পর্যন্ত বলা হতো যে তিমি, বেড়াল এবং কয়েকটি বিশেষ প্রজাতির বাদুড় সহ হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি স্তন্যপায়ী প্রাণী ২০ কিলোহারৎস-এর ওপরে আল্ট্রাসাউন্ড রেঞ্জে কন্ঠসংকেত শুনতে এবং পাঠাতে সক্ষম৷ এমনকি মানুষও ২০ কিলোহারৎস-এর বেশি উচ্চতায় কিছু শুনতেই পারে না৷
এটিও কিন্তু ‘টারসিয়ার’ জাতীয় প্রাণী....
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের হুমবোল্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফিলিপাইন্স'এর একটি গবেষক দল দেখিয়ে দিলেন যে, ‘টারসিয়ার'-রা কিন্তু অনেক দ্রুতগতির শব্দতরঙ্গেও প্রভাবিত হয়৷ তবে তারা এটা করে শুধুমাত্র রাতে, খাদ্য অন্বেষণের সময়৷ বিজ্ঞানীরা আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতি ব্যবহার করে ‘সাউন্ড চেম্বার-এর মধ্যে একটি বিশেষ ‘ফ্রিকোয়েন্সি'-তে এটা প্রমাণ করেন৷ ধীরে ধীরে শব্দতরঙ্গের গতি বাড়িয়ে তারা দেখান যে, এই ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ৬৭ কিলোহারৎস-এর শব্দতরঙ্গও চিনতে সক্ষম৷
মারিসা রামসিয়ার'এর নেতৃত্বে গঠিত ঐ বৈজ্ঞানিক দলটি জানায় যে, ‘ন্যানো' আকৃতির পাঁচটি হাত-যুক্ত এই জীব আল্ট্রাসাউন্ড প্রক্রিয়ার মতোই সন্তর্পণে ঘটনাটি ঘটায়৷ এতে তারা যে পোকা-মাকড়ের দিকে এগিয়ে যায়, তারাও শিকারি কতো দূরে - তা ঠিক মতো ধরতে পারে না৷
উল্লেখ্য, গ্রিক ভাষায় ‘ন্যানো' কথাটির অর্থ হলো ‘বামন'৷ ১০টি হাইড্রোজেন পরমাণু পর পর রাখলে, সেটা এক ন্যানোমিটার দৈর্ঘ্যের সমান হয়৷
প্রতিবেদন: দেবারতি গুহ
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক
ই-মেল অথবা এসএমএস পাঠিয়ে খুব দ্রুত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন৷
ই-মেল: bengali@dw.de
এসএমএস: +88.0173.0302.205
এসএমএস: +91.9830.997232
ভয়েস মেল: +49.228.429-164158
ফ্যাক্স. +49.228.429-154158