চাবি হাতে কয়েকজন ফিলিস্তিনি শিশু৷ ১৯৪৮ সালের ১৫ই মে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মের কারণে যেসব ফিলিস্তিনি ঘর হারিয়েছেন, তারা তাদের গৃহে আবার প্রবেশ করতে চান৷ তাই প্রতি বছর ফিলিস্তিনিরা চাবি হাতে নিয়ে প্রতীকি প্রতিবাদ জানান৷ আর এই দিনটিই ‘নাকবা’ হিসেবে পরিচিত৷ আরবি নাকবা শব্দের অর্থ মহাবিপর্যয়৷
‘নাকবা’ দিবস
ব্রিটেনের অঙ্গীকার
একসময় প্যালেস্টাইন ছিল ওটোমান সাম্রাজ্যের অধীন৷ ১৯১৭ সালে ব্রিটিশরা প্যালেস্টাইনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর, ‘বেলফুর ঘোষণা’-র মাধ্যমে সেখানে জিওনিস্টদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তার অঙ্গীকার করেছিল৷
‘নাকবা’ দিবস
আরব বিদ্রোহ
প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের আগমন বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে ১৯৩৬ সালে আন্দোলন শুরু করে আরবরা৷ তিন বছর পর ব্রিটিশরা সেই আন্দোলন দমিয়ে দেয়৷
‘নাকবা’ দিবস
বিভক্ত করার পরিকল্পনা
১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে প্যালেস্টাইনকে দুই ভাগে ভাগ করে একটা ইহুদি রাষ্ট্র ও একটা আরব রাষ্ট্র করার পরিকল্পনা করে জাতিসংঘ৷ ইহুদিরা একে স্বাগত জানায় আর আরবরা বলে এটা অন্যায়৷ এরপর থেকে আরব ও ইহুদিরে মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ৷
‘নাকবা’ দিবস
নৃশংসতা
১৯৪৮ সালের ৯ই এপ্রিল একটি ইহুদি আধাসামরিক গোষ্ঠী প্যালেস্টাইনের ‘দির ইয়াসিন’ গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালায়৷ এতে একশোর বেশি গ্রামবাসী নিহত হন৷ ইহুদি ঐ গোষ্ঠীটির প্রধান পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন৷
‘নাকবা’ দিবস
নতুন রাষ্ট্রের ঘোষণা
১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ইসরায়েল নামের নতুন একটি রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন৷ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে দেয়৷
‘নাকবা’ দিবস
পালিয়ে যাওয়া
ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণার পর সেদেশের সুসংগঠিত সেনাবাহিনী একের পর এক আরব শহর দখল করা শুরু করে৷ ফলে হাজার হাজার আরব নাগরিক পালিয়ে যেতে বাধ্য হন৷ ১৯৪৯ সালের মাঝামাঝি আরব ও ইসরায়েলিরা যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মত হন৷
‘নাকবা’ দিবস
আশ্রর শিবির
প্রায় সাতলক্ষ ফিলিস্তিনি লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, পশ্চিম তীর ও গাজার বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়৷ বর্তমানে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে৷
‘নাকবা’ দিবস
ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় শত শত আরব গ্রাম এরকম ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়৷ সেসব জায়গায় এখন ইসরায়েলের মানুষ ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছে৷
প্রতিবেদন: মিশায়েল হার্টলেপ/জাহিদুল হক
| সম্পাদনা: ডায়না হোদালি/দেবারতি গুহ