1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা২৬ এপ্রিল ২০১৩

সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজায় উদ্ধার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ সরকারের উদ্ধার কাজ নিয়ে ক্ষোভ থাকায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷

https://p.dw.com/p/18NRb
ছবি: Reuters

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক নুরুল হক দাবি করেছেন, এত বড় বিপর্যয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর মতো সরঞ্জাম তাদের নেই৷

একুশে টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা৷ বুধবার সকালে রানা প্লাজা ধসের সময় থেকেই তিনি সেখানে রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ করছেন৷ বৃহস্পতিবার তিনি ধসে পড়া ভবনের ভিতরে ঢুকে সেখানে আটকে পড়া জীবিত কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নেন৷

তাদের শরীরের একাংশ আটকে ছিল৷ হয়ত এখনও আছে৷ সেই অবস্থাতেই তারা উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে নাজমুলের সঙ্গে কথা বলেন৷ কিন্তু নাজমুল বেদনায় নীল হয়ে যান৷ কারণ তাদের হয়ত শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা যাবে না৷ উদ্ধারকারীরা নজমুলকে জানিয়েছেন, তাদের উদ্ধার করতে গেলে আবার ধস নামতে পারে৷ তাতে আরো সমস্যা হতে পারে৷

Bangladesch Tote bei Einsturz von Textilfabrik 24.04.2013
সাধারণ মানুষ নিজেরাই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেছবি: Reuters

আরেকজন সাংবাদিক জুলহাস কবির জানান, এ রকম আরো অনেক আটকে পড়া মানুষ ভেতর থেকে তাদের উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন৷ তাদের বাইরে থেকে দেখাও যাচ্ছে, কিন্তু উদ্ধার করা যাচ্ছে না৷ এই দু'জন সাংবাদিক জানান, সরকারের উদ্ধারকর্মীদের চেয়ে সাধারণ মানুষ বেশি তৎপর৷ তারাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে যেভাবে পারছেন আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন৷

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং বিজিবি অংশ নিচ্ছে৷ নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হাসান সোহরাওয়ার্দি শুক্রবারের মধ্যে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান শেষ হবে বলে জনিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এ রকম দুর্ঘটনায় মানুষ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে৷ আর সেই ৭২ ঘণ্টা শেষ হবে শুক্রবার বিকেলে৷ তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য আধুনিক সব সরঞ্জাম তাদের আছে৷ তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক নুরুল হক দাবি করেছেন যে, তাদের আধুনিক সরঞ্জাম নেই৷

অবশ্য ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক সেলিম নেওয়াজ ভু্ইঁয়া বলেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন আছে সত্য, তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঝুঁকি নেয়া৷ তিনি নিজে তেজগাঁর ফিনিক্স ভবন এবং সাভারে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধসের উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন৷ তার আলোকে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ উদ্ধার অভিযানে এগিয়ে আসে৷ এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করার পর, সাধারণ মানুষকে বিরত রাখতে হয়৷ কারণ তখন একটি সুশৃঙ্খল এবং সমন্বিত উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়৷ অথচ সাভারের রানা প্লাজার উদ্ধার অভিযান দেখে পরিকল্পনার অভাব ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে৷ উদ্ধারকর্মীরা যেন সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করে বসে আছেন৷ তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসে আধুনিক সরঞ্জাম নেই একথা পুরোপুরি সত্য নয়৷ কয়েক মাস আগেও ২০০ কোটি টাকার উদ্ধার সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল৷ সেগুলোর অনেক সরঞ্জামই এবার ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না৷

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ২৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷ ভবন ধসের সময় ভবনে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ ছিলেন৷ উদ্ধাকারীরা ভবনের সাত তলা থেকেই বেশি লাশ উদ্ধার করেন৷ কিন্তু বাকি তলাগুলোতে যারা ছিলেন তারা ভবনসহ দেবে গেছেন৷ তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি৷ আর ভবনের পেছনের দিকে উদ্ধারকারীরা একেবারেই তৎপর নন৷ সাংবাদিক আর সাধারণ মানুষ সেখানে ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করছেন৷ জানাচ্ছেন আটকে পড়া মানুষের বেঁচে থাকার আঁকুতি৷ এমনকি রুমের মধ্যেও লোকজন আটকে আছেন৷ কিন্তু উদ্ধারকর্মীরা সেখানে যাচ্ছেন না৷ সেলিম নেওয়াজ ভুঁইয়া বলেন, এখানেই প্রয়োজন উদ্ধারকর্মীদের সাহস আর ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতা৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য