1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

তানজানিয়ার লোলিয়োনডো গ্রামের ‘ধন্বন্তরি’ এক চিকিৎসক

২৩ জুন ২০১১

আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের দেশ তানজানিয়ার এক চিকিৎসকের নাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশে-বিদেশে৷ তাঁর ধন্বন্তরি ওষুধে এইচআইভি থেকে শুরু করে বহু জটিল রোগই নাকি ভাল হয়ে যায়৷ তাই নানা দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ইদানীং ছুটছেন তাঁর কাছে৷

https://p.dw.com/p/11i2L
ছবি: picture-alliance / Godong

নানা ধরনের রোগবালাই বিশেষ করে জটিল ব্যাধির নিরাময়কারী বলে তাঞ্জানিয়ার লোলিয়োনডো গ্রামের ঐ কবিরাজ এতটাই সুপরিচিত হয়েছেন, যে তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ির ভিড় জমে৷ বেশির ভাগই কেনিয়া থেকে আসে, জানান তানজানিয়ার কর্তৃপক্ষ৷

লোলিয়োনডো গ্রামে হাজার হাজার মানুষের ভিড়

মিনিবাসটি নয় ঘন্টা ধরে গ্রামের ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে৷ ভেতরে অসম্ভব গরম ও ধুলাবালি৷ অবশেষে সবুজ পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বাসটি পৌঁছায় লোলিয়োনডো গ্রামে৷ যাত্রীদের চোখেমুখে স্বস্তির ভাব ফুটে ওঠে৷ তারা পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে ভাল হাসপাতাল ছেড়ে তানজানিয়ার অজ পাড়াগাঁয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছেন, যেখানে যেতেই লাগে একদিন৷ বাস থেকে নামার পর ফ্রান্সিস কিয়ালি চেগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে জানান, যাত্রাটা বেশ কষ্টকর৷ তবে এই কষ্ট সার্থক হবে বলেই মনে করেন ৭৬ বছর বয়স্ক এই মানুষটি৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমি এখানে এসেছি সনাতন প্রথায় তৈরি ওষুধ খেতে, যাতে আমি সুস্থ হতে পারি৷ অনেকেই বলেন যে, তাঁরা এখানকার ওষুধে ভাল হয়েছেন, তাই আমিও এখানে ভাল হব বলে মনে করি৷ তবে এখন আমার ডাক্তারের দেওয়া ডায়বেটিসের ওষুধ খেতে হবে৷ কারো কাছে কী পানি আছে?''

খাবার, পানি ও ঘুমানোর জন্য তাঁবু, এসব কোনো সমস্যা নয় লোলিয়োনডোতে৷ শয়ে শয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গত কয়েক মাসে এখানে তাঁদের ব্যবসা খুলেছেন৷ কেউ কেউ কাজও জোগাড় করে নিয়েছেন৷ এদের মধ্যে একজন নিলিকানা পেড্রো নিয়েরোসা৷ এই তরুণ গত এপ্রিল মাসে এসেছেন এই গ্রামে চিকিৎসার জন্য৷ তারপর পাহারাদার হিসাবে কাজ পেয়ে থেকে গেছেন৷ তবে গাড়ির ভিড়টা এখন আগের মত নেই৷ জানান নিয়েরোসা৷ তার কথায়, ‘‘এখন প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ গাড়ি এখানে আসে৷ তবে বেশির ভাগ গাড়িই তানজানিয়া থেকে নয়, কেনিয়া, উগান্ডা, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কংগো, জাম্বিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আসে৷''

বেশ কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয় রোগীদের

ভোর ছয়টায় উঠেই ডায়বেটিসের রোগী ফ্রান্সিস কিয়ালি সুট পরে হাতে লাঠি নিয়ে তাঁবু থেকে বের হয়ে ছোটেন লোলিয়োনডিও'র সেই ডাকসাইটে কবিরাজ, নিজেকে যিনি বাবু নামে অভিহিত করেন, তাঁর উদ্দেশে৷ শয়ে শয়ে রোগী তাঁর মাটির তৈরি কুঁড়ে ঘরের সামনে অপেক্ষা করছেন৷ তবে প্রথমে ঘন্টা খানেকের জন্য নিরাপত্তা সম্পর্কে বক্তৃতা দেয়া হয়৷ ফোটো তোলার কঠোর নিষেধ আছে৷ কেউ নিয়ম না মানলে আটক করা হয়৷ সাংবাদিকরাও শুধু অনুমতি নিয়েই এ সম্পর্কে খবর দিতে পারেন৷

ভোর সাতটার সময় বাবু তাঁর কুঁড়ে ঘর থেকে বের আসেন, মেগাফোন দিয়ে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে কথা বলেন৷ প্রত্যেক রোগীকে তাঁর তৈরি করা এক গ্লাস ওষুধ বা মিক্সচার খেতে বলেন৷ বাচ্চাদের খেতে হবে অর্ধেক গ্লাস৷

বিশ্বাসে মেলায় বস্তু

‘মুগারিগা' বা ‘কারিসা এডুলিস' নামে এক ধরনের গাছের নির্যাস থেকে তৈরি এই ওষুধ৷ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা এই বৃক্ষের আরোগ্য করার মত কোনো গুণ আদৌ আছে কিনা, তা নিয়ে অবশ্য সন্দিহান৷ বাবু কিন্তু বলছেন, এই ওষুধ খাওয়ার সাত দিন পরেই এইডস, ক্যানসার হাঁপানি কিংবা মৃগী রোগও ভাল হয়ে যায়৷ বহু রোগীরও তাই বিশ্বাস৷ বাবু বলেন, ‘‘এটি এমন এক গাছ, যাতে ঈশ্বরের আশীর্বাদ রয়েছে৷ তাই তোমরা ভাল হলে আমাকে নয়, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাও৷''

বক্তৃতা শেষ হলে বাবু চলে যান তাঁর ঘরে৷ নিরাপত্তা রক্ষীরা রোগীদের গাড়ির দিকে নিয়ে যান৷ সেখানে তাঁদের ওষুধ দেয়া হয়৷ এক কাপের দাম ২৫ সেন্ট৷ ফ্রান্সিস কিয়ালি শেগে এবং নাইরোবি থেকে আসা অন্য রোগীরা এক টানে তরল ওষুধটা শেষ করে ফেলেন৷ ফ্রান্সিস তৃপ্তির হাসি হাসেন, যদিও বাড়িতে ফিরতে নয় ঘন্টা লাগবে তাঁর৷ তবে তিনি নিশ্চিত যে, সাত দিন পরেই অসুখ সেরে যাবে৷ সবাই যখন বলছে, হাজার হাজার লোক যখন আসছে এখানে, তখন এতে কিছুটা সত্যতা তো আছেই৷ দৃঢ়মূল ধারণা এই ডায়বেটিস রোগীর৷


প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক