1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে গরমের রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে

৬ মে ২০১১

এ বছরের এপ্রিল মাস যুক্তরাজ্যের একশ' বছরের গরমের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে৷ গত বছর পূর্ব-ইউরোপ এবং রাশিয়া জুড়ে যেমন তাপদাহ দেখা গেছে তা নজিরবিহীন৷ ইউরোপের ৫০০ বছরের ইতিহাসে এত দীর্ঘ হয়নি গ্রীষ্মকালের স্থায়ীত্ব৷

https://p.dw.com/p/11Ad6
উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে দাবানলের ঝুঁকিছবি: AP

গত ছয় বছরে সুমেরু অঞ্চলে উষ্ণতা যতটা বেড়েছে তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ৬ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে৷ সম্প্রতি অসলোতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এইকথা বলা হয়েছে৷ ‘দ্য আর্কর্টিক মনিটরিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম'-এএমএপি বলেছে, ১৮৮০ সাল থেকে শুরু করে যে কোন পাঁচ বছরে সুমেরু অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা যত ছিল তার চেয়ে, ২০০৫ সাল থেকে সুমেরু অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা অনেকটা বেড়ে গেছে৷

Hitzewelle in den USA Junge im Springbrunnen
উত্তাপ থেকে বাঁচার উপায়ছবি: AP

গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা শূন্য দশমিক ৯ থেকে ১ দশমিক ৬ পর্যন্ত বেড়ে যাবে৷ তাঁরা বলেছেন,‘‘সুমেরু অঞ্চলের হিমবাহ ও বরফের উপরিভাগ গলে যাবে৷ সেইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বিশাল বরফ খণ্ডগুলোও একসময় হারিয়ে যাবে৷ আর এই বিষয়গুলোর ফলে বেড়ে যাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা৷''

তাঁরা আরও বলেছেন, সুমেরু অঞ্চলে তাপমাত্রা যতটা বাড়ছে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় তাপমাত্রা বাড়ছে তার দ্বিগুণ হারে৷ এমনকি শরৎকাল এবং শীতকালে সুমেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

গবেষণায় বলা হয়েছে, এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ৩ ডিগ্রি থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ আর সুমেরু অঞ্চল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, এ শতাব্দীতেই, হতে পারে আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেই গ্রীষ্মকালে প্রায় বরফশূন্য হয়ে যাবে৷

Bildgalerie Extremes Wetter in Europa Italien 2
ইউরোপও গত বছর তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিলছবি: AP

গত একশ' বছরের মধ্যে এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যে এবছর সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছিলো৷ সাধারণত এপ্রিল মাসে যে তাপমাত্রা থাকে এবার তার চেয়ে তাপমাত্রা ছিলো ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি৷ এছাড়া এই এপ্রিল মাস ছিলো যুক্তরাজ্যের ১১তম শুষ্ক মাস৷ কেননা, সাধারণত এসময় যে পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়, এবার হয়েছে তার অর্ধেক৷

ফয়সাল আহমেদ ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে আছেন৷ তিনি বললেন, ‘‘এই চারবছরে আমি এখানকার আবহাওয়ার বেশ পরিবর্তন দেখেছি৷ এ বছর যা মনে হচ্ছে তুলনামূলকভাবে রোদ ও উজ্জ্বল আবহাওয়া৷ মানুষ এখনই গরম অনুভব করছে৷ তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিও কম৷ গ্রীষ্মকালে দেখা যায়, গড়ে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়৷ সকালে না হলেও সন্ধ্যায় হয়৷ এবার এখনও বৃষ্টি শুরু হয়নি৷''

এবছর এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের গড় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ২০০৭ সালের এপ্রিলের তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ছাড়িয়ে গেছে৷

মার্চ-এপ্রিল মাসে গোটা যুক্তরাজ্য জুড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় এবার হয়েছে তার অর্ধেক৷ ফলে শীতকালের গড় শুষ্কতার চেয়েও ঐ দু'মাসকে বেশি শুষ্ক দেখা গেছে৷ তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের দিক থেকে বড় ধরণের বৈচিত্র্য দেখা গেছে৷ উত্তর-পশ্চিমাংশে স্কটল্যান্ডে এপ্রিলের সাধারণ বৃষ্টিপাতের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত দেখা গেছে৷ যেখানে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই সময়ের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে বৃষ্টিপাত দেখা গেছে ১০ শতাংশ কম৷

‘‘এখন আসলে আবহাওয়া বিশেষ কোনো নিয়ম কানুন অনুযায়ী আর চলছে না৷ যে সময় গ্রীষ্মকাল আশা করা হচ্ছে সেসময় দেখা যাচ্ছে গ্রীষ্ম শুরু হচ্ছে না৷ হয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এটি হচ্ছে৷ এখানকার অনেক পত্র-পত্রিকায় আবহাওয়া নিয়ে অনেক লেখালেখিও হচ্ছে৷ কী কারণে এটা হচ্ছে তা নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে এখানে৷''

Eine junge Frau wischt sich am 17.6.2002 in der Hildesheimer Börde beim Anblick eines Thermometers, das tropische Hitze mit Temperaturen von fast 35 Grad anzeigt, die Schweißperlen von der Stirn. Flirrende Hitze brachte auch am 18. Juni die Menschen in ganz Europa mächtig ins Schwitzen. In Deutschland löste das Hoch "Xabier" bei den Wetterexperten Rekordfieber aus. "In vielen Orten sind gestern und heute Rekordwerte für diese Tage seit Beginn der Wetteraufzeichnungen erreicht worden", sagte Meteorologe Reiff vom Wetteramt Essen. Am 19.6. bringt das Tief "Saskia" nach Angaben des Wetterdienstes Meteomedia aber wieder schlechteres Wetter.
বেড়ে চলা তাপমাত্রায় কাহিল মানুষছবি: picture-alliance/dpa

জার্মানিতেও এবারের এপ্রিল ছিল বেশ গরম৷ সুলতানা আইয়ূব জার্মানির বন শহরে বাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে৷ তিনি বললেন, ‘‘আমি প্রায় ৩০ বছর জার্মানিতে আছি৷ আবহাওয়ার পরিবর্তনটা এখানে চোখে পড়ার মতো৷ এখানে আমি আসার পর ২০ বছর পর্যন্ত কখনও দেখিনি গরমে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে৷ কিংবা এপ্রিল মাসে কখনই দেখিনি এতো উজ্জ্বল আলোতে চারিদিক ভরে থাকে৷ আসার পর থেকে সবসময় শুনেছি এপ্রিল মাসে আবহাওয়ার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই৷ অন্ধকার, বৃষ্টি৷ এপ্রিল মাসে অনেক সময় খুবই ঠান্ডা, বৃষ্টি, অন্ধকার, হালকা বরফ পড়তেও দেখেছি৷ কিন্তু এবার দেখছি তার উল্টো৷ আবার গরমকালেও অসহনীয় গরম৷''

একদিকে তাপমাত্রা বাড়ছে৷ অন্যদিকে বাড়ছে শুষ্কতা৷ যার প্রভাব গিয়ে পড়া শুরু করেছে শস্যে৷

‘‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য শীতের সময় শীত দরকার৷ তা না হলে তো এখানকার অনেক পোকামাকড় এবং ফসলের আবাদের জন্য অসুবিধা৷ ভালো ফসল হয় না৷ অনেক সময় মাটি যদি যথেষ্ট সময় ঠান্ডা না হয় অনেক ফসলের ফলন ভালো হয় না৷ পোকামাকড় বেড়ে যায়৷ সেজন্য শীতের সময় শীত থাকাটাইতো কাম্য৷''

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক