1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ফার্গুসনের মূর্তি

৬ নভেম্বর ২০১২

মারাদোনাকে মনে রাখতে নাপোলি যা করেছে, ফার্গুসনের জন্য তা-ই করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড৷ খেলোয়াড় মারাদোনা আর ম্যানেজার ‘ফার্গি’-র আরেকটা মিলও স্থায়ী হয়ে গেল!

https://p.dw.com/p/16dU7
ছবি: picture-alliance/Back Page Images

দু'জনের অমিল অনেক৷ একজন খেলোয়াড়, আরেকজন ম্যানেজার৷ একজন আর্জেন্টাইন. আরেকজন স্কটিশ – এসব তো আছেই৷ বলতে গেলে আরো কত কী বলা যায়! আর্জেন্টিনার হয়ে দিয়েগো মারাদোনা বিশ্বকাপ জিতেছেন, ফার্গুসন বিশ্বকাপ খেলা তো দূরের কথা, ম্যানেজার হিসেবেও সুযোগ পাননি বিশ্বকাপে৷ অবশ্য পাননি না বলে সেরকম কিছু এখনো চাননি বলাই ভালো৷ অ্যালেক্স ফার্গুসন আজ বললে কালই তাঁকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকে পাঠাবে এমন দেশ বোধহয় হাতে গুনে শেষ করা যাবে না৷ একবার জাতীয় দলের কোচ হলে সে দলকে বিশ্বকাপে তোলা ম্যান ইউ বস-এর জন্য কোনো ব্যাপার!

অথচ এখনো কোনো দেশের কোচ হওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহও দেখান নি জন্মসূত্রে স্কটিশ ফার্গুসন৷ সে কারণেই তাঁর সব সাফল্য ক্লাব ফুটবলে, এবং সাফল্যের প্রায় সবই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে৷ ইংল্যান্ডের এই ক্লাবে ১২টি লিগ, ২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, পাঁচটি এফএ কাপ ও চারটি লিগ কাপ মিলিয়ে ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত মোট শিরোপা জিতেছেন ৪৮টি! এমন সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এবার তাঁর একটা মূর্তি গড়েছে ম্যান ইউ৷ ওল্ডট্রাফোর্ডের এ মূর্তিটির উদ্বোধন হবে আগামী ২৩শে নভেম্বর৷ ক্লাব ফুটবলে মারাদোনার সবচেয়ে বড় সাফল্য নাপোলির হয়ে৷ ইতালির ক্লাবটি কিন্তু তাঁরও মূর্তি গড়ে রেখেছে!

Sir Alex Ferguson Flash-Galerie Iran
মারাদোনাকে মনে রাখতে নাপোলি যা করেছে, ফার্গুসনের জন্য তা-ই করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডছবি: AP

শুধু মূর্তি গড়াতেই মিল দু'জনের? একেবারেই নয়৷ মারাদোনা যে বছর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতালেন, সে বছরই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব পেয়েছিলেন অ্যালেক্স ফার্গুসন৷ হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, ১৯৮৬ সালেই ম্যান ইউ কোচ হিসেবে অভিষেক ফার্গুসনের৷ সেই থেকে ২৬টি বছর৷ একই ক্লাবে৷ কত খেলোয়াড় এসেছেন-গেছেন, কত উত্থান-পতন দেখেছেন ম্যান ইউ সমর্থকরা, অ্যালেক্স ফার্গুসন সবসময় ছিলেন তাঁদের সাথে, সহমর্মী-সমব্যথী নেতার মতো৷ তাই ফার্গুসনের আন অফিসিয়াল আরেকটি নাম ‘ম্যান ইউ বস'৷

মারাদোনার সঙ্গে আরেকটি মিল ব্যক্তিত্বে৷ কেরিয়ার জুড়ে অসংখ্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দু'জনই৷ মারাদোনা যেমন সুযোগ পেলেই ফিফা এবং পেলে-কে এক হাত নিতে পছন্দ করেন, ফার্গির পছন্দ সেখানে প্রতিপক্ষ দল বা কোচকে ম্যাচের আগে কথার লড়াইয়ে কুপোকাত করা৷ মারাদোনার মতো ড্রাগ কেলেঙ্কারিতে জড়াননি ঠিকই, তবে ম্যানেজার ফার্গিও এমন অনেক ‘কীর্তি' গড়েছেন যে সবের কথা ফুটবলবিশ্ব কোনো দিন ভুলবে না৷

বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দিতে পারলে ধন্য হন সকলে, ফার্গি তাঁদের সাক্ষাৎকারই দেন না, ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেন নির্বিবাদে – ভাবা যায়! সব ক্লাবে তারকা ফুটবলারদের রীতিমতো জামাই আদর৷ অথচ ফার্গির সঙ্গে তর্ক করে বুটের আঘাতে আহত হয়ে এক পর্যায়ে ক্লাব ছাড়তে হয় ডেভিড বেকহাম৷ রেফারির সঙ্গে বিবাদে জড়ানোয় এ পর্যন্ত পাঁচ বার মাঠে নিষিদ্ধ হওয়া এবং পাঁচ দফায় ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা দেয়া লোকটির নাম বলতে পারেন? স্যার অ্যালেক্স চ্যাপম্যান ফার্গুসন৷ ব্রিটিশ রাজের কাছ থেকে ‘স্যার' উপাধি পাওয়া ফার্গুসনের মারাদোনার সঙ্গে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা কী বলুন তো? ফার্গুসন কখনো ফুটবলে নিষিদ্ধ হননি, মারাদোনা হয়েছেন!

এসিবি/ডিজি (এপি, ইন্টারনেট)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য