1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আফগানিস্তানে আফিম চাষে ভাটা পড়েছে

২২ সেপ্টেম্বর ২০০৯

আফিম চাষে ভাটা পড়েছে আফগানিস্তানে৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আফিম উৎপাদনকারী এই দেশটিতে অনেক কৃষকই এখন আফিম বাদ দিয়ে ফুল বা খাদ্যশস্য চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন৷ জাতিসংঘের হিসাব মতে, দেশটির অর্থনীতিতে আফিমের অবদান এখন মাত্র চার শতাংশ৷

https://p.dw.com/p/Jm5Q
ছবি: AP

যা সাত বছর আগেও শতকরা ২২ ভাগ দখল করে ছিল জাতীয় অর্থনীতিতে৷

নামে একজন কৃষক হলেও ক্ষমতা বা অর্থ কোনটারই কমতি নেই তার৷ দামি গাড়ি, বড় বাড়ি, দেহরক্ষী, স্যাটেলাইট ফোন বা ব্যাংক ব্যালান্স কোনটারই অভাব নেই৷ বয়সে তরুণ এই কৃষকের নাম মোহম্মদ ওসমান৷ আফগানিস্তানের এই আফিম চাষি প্রতিবছর কয়েক শ হেক্টর জমিতে আফিমের চাষ করে৷ তার অর্থের প্রধান এবং একমাত্র উৎস এই আফিম৷

আফগানিস্তানে আফিম চাষ কমে আসছে বটে কিন্তু ওসমানের অর্থবিত্তের কোন ঘাটতি এখনো পড়েনি৷ তার উৎপাদিত আফিমের দাম কমেছে, আর কমেছে চাষের জমিও৷ ওসমান একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে বলেন, এই ব্যবসায় তার আগের মতো হয়তো লাভ হচ্ছে না, কিন্তু তার কিছু করার নেই৷ কারণ আফিমের ব্যবসা যে পরিমাণ অর্থ দেবে অন্য কোন ফসল উৎপাদন করে সে তা পাবে না৷

এতো গেল বড় কোন আফিম চাষির গল্প৷অনেক ছোট আফগান চাষিরাও মনে করছে, এই আফিম চাষ অনেক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ৷ যেমন আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের ছোট আফিম চাষি দোস্ত মোহাম্মদ বলছে, সরকারের চোখে তারা ব্যবসায়ী আর তালেবান জঙ্গিদের কাছে তারা অর্থের জোগানদাতা৷ গরিব কৃষকদের চাপের মুখে ফেলে আফিম চাষ করতে বাধ্য করছে ব্যবসায়ীরা, এমন মতও দেন দোস্ত মোহাম্মদ৷

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে আসায় এখন অনেকেই ধীরে ধীরে আফিম চাষ থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে আনছে৷ একদিকে সরকারিভাবে আফিম চাষের উপর নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে কম দাম৷ সবকিছু মিলিয়ে আফগানিস্তানের অনেক জমিই এখন আফিমের বদলে গোলাপ বা সবুজ শস্যে ভরে উঠছে৷ দুই বছর আগে খাদ্য শস্য উৎপাদনের চেয়ে দশ গুন বেশি জমিতে আফিম চাষ করা হতো৷ কিন্তু বর্তমানে এই মাত্রা, মাত্র ৩গুণ৷

জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, ৮ লাখ আফগান কৃষক এ বছর আফিমের চাষ করেছে৷ যা গেল বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ কম৷ আর দাম - তাও নিম্নমুখী৷ মাদক ব্যবসায়ী আহমেদ খান বার্তা সংস্থাকে বলে, কম দাম এবং সরকারের চাপ দুটোই তার ব্যবসার বারোটা বাজিয়েছে৷ তার হিসেব মতে, আগে ৫ কিলোগ্রাম আফিম সে ৪০ হাজার পাকিস্তানি রুপিতে বিক্রি করতে পারলেও এখন তার পক্ষে তা ১৫ হাজার রুপির থেকে বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব না৷

প্রতিবেদক: ঝুমুর বারী

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক