1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সুষমার বাংলাদেশ সফর

সমীর কুমার দে, ঢাকা২৮ জুন ২০১৪

দুই দিনের সফরে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ সুষমার এই সফরে বাংলাদেশ কি পেল - এখন এমন প্রশ্ন জনগণের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষমার এই সফরটি ছিল প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মিশেল৷

https://p.dw.com/p/1CRr9
Indiens Außeniministerin Sushma Swaraj trifft Khaleda Zia
সুষমা-খালেদা বৈঠকছবি: DW

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, সুষমা এই সফরে একটি বার্তা নিশ্চিত করে গেছেন৷ আর তাহলো বাংলাদেশের একক কোনো দলের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের দুই বড় দলের সঙ্গেই সমান সম্পর্ক রাখতে চান তিনি৷

ডয়চে ভেলেকে ড. আহমেদ বলেন, ‘‘এদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার বার্তা দিয়েছে ভারত৷ যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ৷ এর মাধ্যমে সুষমা স্বরাজের এই সফরে পরিষ্কার হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কে তারা যথেষ্ট সচেতন৷''

তবে তিনি মনে করেন, সুষমার এবারের সফর একদমই শুভেচ্ছা সফর৷ তিনি ভারতের যে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন সেই সরকার কেবলমাত্র একমাস হলো ক্ষমতায় আসীন হয়েছে৷ আর একমাস বয়সি একটি সরকারের পক্ষে চাইলেও এখনই বড় কিছু করা সম্ভব নয়৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এম শাহেদুজ্জামান অবশ্য মনে করেন, সুষমার এই সফরে বাংলাদেশের কোন প্রাপ্তি নেই৷ যা প্রাপ্তি তার সবই ভারতের৷ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে৷

ডয়চে ভেলেকে শাহেদুজ্জামান বলেন, ‘‘তিস্তার পানি চুক্তি, সীমান্ত সমস্যার ব্যাপারে কোন আশ্বাসই দেননি সুষমা৷ তিনিও আগের সরকারের মতো অযুহাত দেখাচ্ছেন৷''

‘খালেদার দেখা করা ঠিক হয়নি'

এম শাহেদুজ্জামান মনে করেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া হোটেলে গিয়ে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করা ঠিক হয়নি৷ খালেদা জিয়াকে নয়-ছয় করে কিছু সময় দিয়েই সুষমা সংসদ ভবনে চলে গেলেন তথাকথিত বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের সঙ্গে করতে৷ এতে বোঝা যায় বিএনপি নেত্রীকে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন৷

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ অবশ্য মনে করেন, সুষমার সফরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হয়েছে৷ তাহলো বাংলাদেশের কোন নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না ভারতের নতুন সরকার৷ যেমনটি কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি পারিবারিক সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল৷ সেখান থেকে সরে গিয়ে বিজেপি সরকার বলতে চাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক হবে৷

তিনি বলেন, ‘‘সেমিনারে দেয়া সুষমার বক্তব্য তাত্‍পর্যপূর্ণ৷ সেই বক্তব্যে সুষমা বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সহনশীলতার সংস্কৃতি, অংশগ্রহণ ও ভিন্নমতের বিকাশ প্রয়োজন৷ অনুরোধ পেলে এ ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা ও অনুসৃত আদর্শ সানন্দে বিনিময় করব৷''

‘সংলাপ হয়তো শুরু হতে পারে'

আশাবাদী ড. আহমদে বলেন, ‘‘এখন দেখা দরকার যে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে কোন পরিবর্তন আসে কি-না৷ আমি আশাবাদী, এক ধরনের সংলাপ হয়তো শুরু হতে পারে৷ আওয়ামী লীগের এখন উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করে দেয়া৷''

এম শাহেদুজ্জামান অবশ্য মনে করেন, ভারতের কোন আশ্বাসের দিতে তাকিয়ে থাকা বিএনপির ঠিক হবে না৷ বিএনপির উচিত্‍ জনগনের প্রতি আস্থা রেখে আন্দোলন, সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া৷ কারণ এর আগেও ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখেনি৷ বরং তারা আমাদের কাছ থেকে ট্রানজিটসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে৷ তারা পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে আমাদের সম্পর্ককে খুবই নেতিবাচক কথা বলে৷

তিনি বলেন, ‘‘সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক করবে না৷ তারা তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখবে৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য