1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ফ্রানৎস কাফকার পৃথিবী

মারুফ আহমদ৮ জুলাই ২০১৩

সাহিত্যে অন্ধকারময় অদ্ভুত সব ঘটনা তাঁর অসাধারণ ভাষার সৌন্দর্যে উজ্জ্বল৷ অস্তিত্ববাদী লেখক ফ্রানৎস কাফকা তাঁর প্রতিপাদ্য বিষয় প্রকাশ করেছেন অত্যন্ত সাবলীলভাবে, দক্ষতার সাথে৷

https://p.dw.com/p/193dr
ছবি: picture-alliance/dpa
Franz Kafka und Felice Bauer
ছবি: ullstein bild-Heritage Images/Jewish Chronicle

পুরো নাম: ফ্রানৎস কাফকা

জন্ম: ৩রা জুলাই, ১৮৮৩, প্রাগ, চেক প্রজাতন্ত্র৷ (তখন নাম ছিল বোহেমিয়া৷ অঞ্চলটি তখন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির অন্তর্ভুক্ত ছিল৷)

মৃত্যু: ৩রা জুন, ১৯২৪, কিয়ারলিং,অস্ট্রিয়া

পেশা: লেখক

বাবা: হ্যারমান কাফকা

মা: জুলি

উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কর্ম: দি ফ্যারভান্ডলুং (দ্য মেটামরফোসিস), ডাস উয়রটাইল (দ্য জাজমেন্ট), ডেয়ার প্রোৎসেস (দ্য ট্রায়াল), ডি বেত্রাখটুং (কন্টেমপ্লেশন)

শারীরিক এবং মানসিক নিষ্ঠুরতা, বিচ্ছিন্নতাবোধের আদিরূপ, পিতা-মাতা-সন্তানের দ্বন্দ্ব, আতঙ্ক, আমলাতন্ত্রের গোলকধাঁধা আর রহস্যময় রূপান্তরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে কাফকার অধিকাংশ রচনা৷ সমাজের বিভিন্ন দিক, বিভিন্ন সময় উদ্ভট রূপ পেয়েছে তাঁর উপন্যাসে, ছোট গল্পে৷ তাঁর বিখ্যাত ‘দ্য মেটামরফোসিস' বা রূপান্তর উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা গ্রেগর সামসা৷ একদিন সকালে ঘুম ভাঙলে তিনি এক কিম্ভূতকিমাকার বিরাট পোকার রূপে নিজেকে আবিষ্কার করেন৷ তারপর থেকেই শুরু হয় অসহনীয় এক পরিস্থিতি৷ পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার কারণে তাঁর বিক্রেতার চাকরি হারান এবং ধীরে ধীরে গোটা পরিবারের সহানুভূতিও হারান তিনি৷ হয়ে ওঠেন অবাঞ্ছিত৷ এক সময় মারা যান তিনি৷ ঘরের পরিচারিকারা ময়লার সাথে বাইরে ফেলে দিয়ে আসেন তাঁকেও৷ তাঁর উপন্যাস বা গল্পের চরিত্র প্রায়ই পক্ষপাতিত্ব, লজ্জা এবং অপরাধবোধ বা এমন বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন৷ ‘দ্য ট্রায়াল' গল্পের কথাই ধরা যাক৷ সেখানে ব্যাংক কর্মচারী ইয়োসেফকে এক সকালে গ্রেপ্তার হলেন বিরাট কোনো অপরাধ না করেই এবং শেষ পর্যন্ত তিনি জানতেই পারলেন না তাঁর বিরুদ্ধে আসল অভিযোগটা কী৷ এমনকি বিচারকের সামনেও তাঁকে দাঁড়াতে দেয়া হয়নি৷

Buchcover Franz Kafka Die Verwandlung
দি ফ্যারভান্ডলুং (দ্য মেটামরফোসিস) বইয়ের কাভারছবি: Fischer Verlag

নিজের জীবনের বহু অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে কাফকার রচনায়৷ বড় হয়েছেন জন্মস্থান প্রাগে, সংখ্যালঘু জার্মান ভাষী ইহুদি পরিবারে৷ বাবা ছিলেন ব্যাবসায়ী৷ ছেলের ওপর তাঁর ছিল কঠোর কর্তৃত্ব৷ বলা হয়ে থাকে কাফকার সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ তিনি কিছুটা অশ্রদ্ধার চোখেই দেখতেন৷ তবুও কাফকা সারাজীবন চেষ্টা করেছেন দাম্ভিক বাবার কাছাকাছি যেতে৷ জার্মান ভাষীদের স্কুলের শিক্ষা শেষে প্রাগের চার্লস ফ্যার্দিনান্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াশোনা করেন৷ আইনজীবী হিসেবে একটি বীমা কোম্পানিতে কাজ করেছেন বহু বছর৷ এমন চাকরি উপভোগ করতেন না, তাই সবসময় বলতেন ‘রুটির জন্য এই চাকরি'৷

চাকরির পাশাপাশিই চলে সাহিত্য চর্চা৷ ১৯১২ সালে প্রথম প্রকাশ পায় ১৮টি ছোট গল্পের সংকলন ‘বেত্রাখটুং' (কন্টেমপ্লেশন)৷ একাধিকবার প্রেমে পড়েছেন তিনি৷ কিন্তু কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বা বিবাহ পর্যন্ত গড়ায়নি৷ ৩৪ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন কাফকা৷ বলা যায়, তাঁর প্রায় সারাটি জীবনই কেটেছে অসুস্থতাজনিত বিষণ্ণতা এবং সামাজিক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে৷ মারা যান ৪১ বছর বয়সে৷ মৃত্যুর কিছুকাল আগে নিজের যাবতীয় পাণ্ডুলিপি এবং না পাঠানো চিঠি ও স্মৃতিচারণামূলক বই দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর দীর্ঘকালের বন্ধু, সাহিত্যিক ও প্রকাশক মাক্স ব্রোডকে৷ দেয়ার সময় একটা অনুরোধও করেছিলেন – সব কিছুই যেন তাঁর মৃত্যুর পর ধ্বংস করে ফেলা হয়৷ ব্রোড তা করেননি৷ কাফকা বেঁচে থাকতে তাঁর খুব কম রচনাই প্রকাশিত হয়েছিল৷ মৃত্যুর পরই সিংহভাগ প্রকাশিত হয়৷ ফ্রানৎস কাফকার সাহিত্যকর্মই তাঁর লেখক সত্তাকে চিরজীবী করেছে৷