1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

উগ্রবাদী ইসলাম

১৪ আগস্ট ২০১২

রমজান জার্মানির বাডেন-ভ্যুরটেমব্যার্গ’এর বাসিন্দা৷ ঈদ উপলক্ষ্যে ‘ইসলামি জিহাদ ইউনিয়ন’ নামের একটি সংগঠনকে ৬২৪ ইউরো পাঠিয়েছে সে৷ রমজান কিন্তু জানতো যে, তার টাকা অচিরেই উগ্রবাদী কাজকর্মে ব্যবহৃত হবে৷

https://p.dw.com/p/15p9n
An Egyptian Salafi, a follower of an Islamic movement "Salafiyyah", walks through a popular market in Cairo, Egypt, Monday, Sept. 26, 2011. A Salafi is a follower of an Islamic movement, "Salafiyyah", that takes the Salaf who lived during the patristic period of early Islam as model examples. Salafis view the first three generations of Muslims as an eternal model for all succeeding Muslim generations, especially in their beliefs and methodology of understanding the texts, but also in their method of worship, mannerisms, morality, piety and conduct. (ddp images/AP Photo/Amr Nabil)
ছবি: Amr Nabil/AP/dapd

অর্থ ছাড়া কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা উগ্রবাদী সংগঠন চলতে পারে না৷ তা সে আফগান তালেবানই হোক, অথবা ইসলামপন্থি সালাফিরা – সন্ত্রাসবাদের বিকাশেও প্রয়োজন অর্থের৷ আর সেই অর্থেরই একটা বড় অংশ আজকে আসছে জার্মানি থেকে৷

না, রমজান একা নয়৷ জার্মানিতে তার মতো বহু মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নানা ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত৷ যেমন বললেন ড্রেসডেন শহরের হানা-আরেন্ট-ইন্সটিটিউট'এর প্রধান মিখায়েল লগভিনোভ৷ তাঁর কথায়, ‘‘উগ্রপন্থি ইসলামিদের জন্য ইউরোপ যে শুধু একটি লক্ষ্যবস্তু – তা নয়, ইউরোপ অর্থায়নের জন্যও একটা শক্তিশালী ঘাঁটি৷ এ কারণেই বছরের পর বছর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি এমন মানুষদের জার্মানিতে পাঠিয়েছে, যারা এই অর্থায়নকে সম্ভব করে তুলতে পারে৷ সে ১০০ ইউরোই হোক, অথবা ১০০০৷''

জার্মানিতে উগ্রবাদী তৎপরতা নতুন নয়

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, তার পরিকল্পনাও জার্মানিতে হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়৷ দেশটির কেন্দ্রীয় অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় বা বিকেএ জানায়, জার্মানিতে এক হাজারেরও বেশি মুসলিম উগ্রপন্থি রয়েছে এবং যে কোনো সময় সহিংস ঘটনা ঘটানোর মতো প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের৷ বিকেএ'র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উগ্রবাদ সংক্রান্ত ৩৫২টি ঘটনার তদন্ত চলছে জার্মানিতে৷ শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছর ধরে উগ্রপন্থিদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে বলেও জানিয়েছে বিকেএ৷

Week 33/12 GE2: Wie groß ist die Gefahr durch Islamisten in Deutschland...MMT - MP3-Mono

উগ্রবাদ বিশেষজ্ঞ মিখায়েল লগভিনোভ বলেন, ‘‘অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত প্রায় দু'বছর ধরে সালাফি মতাদর্শে দীক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে জার্মানিতে৷ তারা প্রায়ই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যাচ্ছে৷ এছাড়া, জার্মান বংশোদ্ভূত যেসব মানুষ সশস্ত্র জেহাদের ধারণাকে সমর্থন করে বা নিজেরাই সেই ধর্মযুদ্ধে অংশ নেয়, তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে সালাফি মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বা আছে৷''

জার্মানিতে সনাতন সালাফি আদর্শ

সালাফি কথাটা আরবি ‘সালাফ' শব্দ থেকে এসেছে৷ যার অর্থ পূর্বপুরুষ৷ চতুর্দশ শতকের ইসলামি ধর্মমত অনুযায়ী, পূর্বপুরুষদের ধর্মবিশ্বাস এবং জীবনচর্যা কঠোরভাবে মেনে চলে সালাফিরা৷ তাদের মতে, মুসলিমরা ক্রমশ আদিযুগের সেই মূল আদর্শ থেকে সরে গেছে৷ তাই এবার, সেই মৌলিক আদর্শের পথে ফিরে যাবার সময় এসেছে৷ সময় এসেছে জেহাদের৷

আর সেই উদ্দেশ্যেই নিজেদের প্রচার কাজে ইন্টারনেট ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে সালাফি গোষ্ঠীর অনুসারীরা৷ করে অর্থায়নের ব্যবস্থা৷ স্বাভাবিকভাবেই, জার্মানিতে তাদের প্রধান স্তম্ভ হলো তরুণ সম্প্রদায়৷ আর সেটাই ভয়ের কারণ৷

জার্মান অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার সমীক্ষা অনুসারে এ মুহূর্তে কট্টর ইসলামি সংগঠনের সংখ্যা জার্মানিতে অন্তত ২৯টি৷ সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ৩৭ হাজার৷ তবে জার্মানিতে উগ্রবাদের এই ব্যাপ্তিতে চিন্তিত মুসলিম সম্প্রদায়ও৷ বলাবাহুল্য, তরুণদের উগ্র ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়াটা ব্যাহত করতে চায় তারা – যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সত্যিই কষ্টসাধ্য!

প্রতিবেদন: গ্যুনথার বির্কেনস্টক / ডিজি

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য