1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

৫ জানুয়ারি ২০১৩

ভারতে গণধর্ষণের পর চিকিৎসা চলাকালে মারা যাওয়া তরুণীর পুরুষ বন্ধু অবশেষে মুখ খুলেছেন৷ গত ১৬ ডিসেম্বর নতুন দিল্লিতে একটি চলন্ত বাসে তরুণীটি ধর্ষণের শিকার হন৷ সেসময় তাঁর সঙ্গেই ছিলেন এই বন্ধুটি৷

https://p.dw.com/p/17EYa
ছবি: dapd

ধর্ষকরা পুরুষ বন্ধুটিকেও বেধড়ক পিটিয়েছে৷

ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন ‘জি নিউজ'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গণধর্ষণের প্রত্যক্ষদর্শী পুরুষটি জানান, ১৬ ডিসেম্বর রাতে তাদেরকে পিটানো এবং নির্যাতনের পর চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় ধর্ষকরা৷ এরপর ঘণ্টাখানেক অর্ধ নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন তারা৷ এসময় সাধারণ জনতা কিংবা পুলিশ - কেউই তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি৷

তিনি জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনার দু'ঘণ্টা পর তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হন৷ নিরাপত্তার স্বার্থে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বন্ধুর নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি৷ জি নিউজকে সেই রাতের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমার বান্ধবী মারাত্মকভাবে আহত ছিল এবং অঝোরে রক্তপাত হচ্ছিল৷ আমাদেরকে দেখে গাড়ি, অটো-রিকশা এবং সাইকেল আরোহীরা তাদের গতি কমিয়েছিল কিন্তু না থেমে চলে গেছে৷ আমি হাত উচিয়ে অনবরত সাহায্য চেয়েছি৷ যারা আমাদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল, তারা স্থির দৃষ্টিতে আমাদেরকে দেখেছে এবং কি হতে পারে তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে৷ কিন্তু আমাদের সহায়তায় কিছুই করেনি৷''

Protest Neu Delhi Indien Vergewaltigung
ধর্ষকদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিছবি: picture alliance/abaca

পুলিশ আসার পরও কিছুক্ষণ পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি, জানান গণধর্ষণের শিকার তরুণীর বন্ধুটি৷ তাঁর কথায়, ‘‘তিনটি গাড়িতে করে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে৷ কিন্তু আমাদেরকে সহায়তায় বদলে তাঁরা আমরা পুলিশের কোন দলের আওতাভুক্ত এলাকায় আছি তা নিয়ে তর্ক শুরু করে৷ আমরা একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং কাপড়ের জন্য তাদের কাছে আকুতি জানাতে থাকি৷ একসময় তাদের মধ্যে একজন একটি কাপড় ছিঁড়ে আমাকে দেয় এবং আমার বন্ধুকে সেই কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে বলে৷ আমি নিজে তাঁকে রাস্তা থেকে উঠিয়ে ভ্যানে তুলে দিয়েছি৷''

ধর্ষণের প্রত্যক্ষদর্শী পুরুষটি আরো জানান, পুলিশ তাদেরকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি হাসপাতালে না নিয়ে বরং দূরের একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়৷

উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর গণধর্ষণে গুরুতর আহত তরুণীটি ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান৷ মৃত্যুর পূর্বে বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হন তিনি৷ এমনকি তাঁর অন্ত্রের অংশবিশেষও কেটে বাদ দেওয়া হয়৷ মর্মান্তিক এই ঘটনার পর ভারতসহ গোটা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে৷ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা এবং আলামত ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে৷

গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ষষ্ঠ ব্যক্তি, যে তরুণীকে দু'বার ধর্ষণ এবং সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ, তাকে অল্পবয়স্কদের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে৷

এআই/জেডএইচ (ডিপিএ, এএফপি)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য