1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

স্বজনদের কান্না

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা৩১ আগস্ট ২০১৪

বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেছেন, ‘‘স্বাধীন দেশে যদি এভাবে গুম হতে হয়, আর তাদের উদ্ধারের আবেদন জানালে যদি হয়রানির শিকার হতে হয় তাহলে এই স্বাধীনতা অর্থহীন৷’’ গুম হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা থাকেন আতঙ্কে৷

https://p.dw.com/p/1D473
Rapid Action Battalion RAB Spezialeinheit Militär Dhaka Bangladesh
প্রতীকী ছবিছবি: Getty Images/AFP

শনিবার ঢাকায় এক সম্মেলনে বিশিষ্ট নাগরিক এবং আইনজীবীরা বলেছেন প্রয়োজনে গুম-অপহরণের বিচার চাইতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া হবে৷

‘‘গত বছরের ৪ ডিসেম্বর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত তিনটি গাড়িতে করে ব়্যাব পরিচয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আমার ভাইসহ মোট সাতজনকে তুলে নিয়ে যায়৷ আমরা দেরি করিনি৷ আধ ঘণ্টার মধ্যে সবাই ব়্যাব-১ এ যাই,'' কথাগুলো বলছিলেন সানজিদা ইসলাম৷ নিখোঁজ সাতজনের একজন সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন তিনি৷

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সম্মেলনে সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘‘গত নয়মাস ধরে ওরা মিথ্যে বলছে৷ বলছে, ওরা কিছু জানে না৷ ওরা যদি তুলে নিয়ে না-ও যায়, ওরা খুঁজে দিক৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমার ভাইয়ের একটাই দোষ, বিএনপি করত৷ পারিবারিকভাবেই আমরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷''

এরকম আরো অনেক নিখোঁজের পরিবারের সদস্যরা শনিবার সমবেত হয়েছিলেন মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘‘স্বজনদের ব্যথা: গুম, খুন, নির্যাতন আর না'' শীর্ষক সম্মেলনে৷

আর সেখানে আরো অনেকের মত হাজির হয়েছিলেন লাকসামের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের মেয়ে মাশরুফা ইসলাম৷ গত বছরের নভেম্বর থেকে সাইফুল ইসলাম নিখোঁজ৷ মাশরুফা অভিযোগ করেন, ব়্যাব পরিচয়ে তাঁর বাবাসহ তিনজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর একজনকে পাওয়া গেলেও তাঁর বাবাসহ দু'জনের আজও খোঁজ পাওয়া যায়নি৷

তিনি বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘‘আমরা কেউই দেশে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারছি না৷ নিজের দেশেই নাগরিকেরা গুম হচ্ছেন, তাহলে কী লাভ হলো স্বাধীন হয়ে?''

মাশরুফা বলেন, ‘‘আমার বাবাকে কী করা হয়েছে, আমরা জানি না৷ তিনি জীবিত, না তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে তাও জানি না৷ এ ঘটনায় মামলা করা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই৷ তারপরও নানা রকমের চাপ রয়েছে মামলা না চালানোর জন্য৷''

সম্মেলনে গুম হওয়া ২০ জনের পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে পর্যায়ক্রমে তাদের স্বজনদের গুম হওয়া, ফিরে না আসা এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন৷ আর তাদের বর্ণনার সময় সবার চোখই অশ্রুসজল হয়ে ওঠে৷

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান মাঝে মাঝে আরো কিছু অপহরণ এবং গুমের বর্ণনা দেন৷ আর তাতে পরিবেশ আরো ভারি হয়ে ওঠে৷

সম্মেলনের বক্তা আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘ব়্যাব যদি থাকে, আর আপনারা যদি ক্ষমতায় না থাকেন, তাহলে এই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন আপনাদের ওপরই ঝাপিয়ে পড়বে৷ ২০০৬ সালে বলেছিলাম, খালেদা জিয়া, আপনাদের এই ব়্যাব দানব হবে৷ এখন খালেদা জিয়া সে বিষয়টি উপলব্ধি করছেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি গুমের বিচার হতেই হবে৷ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না৷ এটা আমাদের দেশ৷ এই দেশে এভাবে মানুষকে ধরে নিয়ে যাবে, আর সবাই কান্নাকাটি করবে, এটা হবে না৷''

শাহদীন মালিক বলেন, ‘‘আপনারা ক্ষমতায় এসে ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন, এই বিচার এ দেশে না হলে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব৷''

সম্মেলনে প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার৷ এ অধিকার আদায়ে আমাদের সব সময় সজাগ, সোচ্চার ও সক্রিয় হতে হবে৷ খুন-গুমের ব্যাপারে কোনো প্রকার আপোশ হতে পারে না৷''

সম্মেলনটি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শুরু হয়ে বিকেলে শেষ হয়৷ এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ ও গুম-খুন হওয়া শতাধিক ব্যক্তির স্বজনরা অংশ নেন৷ তারা প্রায় প্রত্যেকেই সম্মেলনস্থলে হাজির হন নিখোঁজ স্বজনের ছবি বুকে নিয়ে৷

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ২০০২ সালে কাজ শুরু করে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করে৷ ২০১১ সাল থেকে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয় জাতিসংঘের উদ্যোগে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য