1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আফগানিস্তানের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩

আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে৷ তা মাথায় রেখে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া উচিত বলে ঢাকায় এক সেমিনারে বক্তারা অভিমত দিয়েছেন৷

https://p.dw.com/p/19e27
Workers and German Bundeswehr armed forces soldiers unload a Tiger attack helicopter from an Antonov 124-100 aircraft upon their arrival at camp Marmal in Mazar-e-Sharif, northern Afghanistan December 14, 2012. The first two German Bundeswehr armed forces Tiger attack helicopter arrived on Friday in Afghanistan. REUTERS/Fabrizio Bensch (AFGHANISTAN - Tags: MILITARY CONFLICT POLITICS)
ছবি: Reuters

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্ট্যাডিজ বা বিআইপিএসএস-র আয়োজনে সোমবার ঢাকায় আফগানিস্তান বিষয়ক এক সেমিনারে বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান এবং ক্যানাডার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন৷ ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডাব্লিলউ গিবসন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন৷

অনুষ্ঠানে বিশ্লেষকরা বলেন, আগামী বছর আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর তা প্রভাব ফেলবে৷ প্রায় এক দশক ধরে আফগানিস্তানে ন্যাটোর অধীনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে৷ কিন্তু আগামী বছর তারা আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিদায় নেবে৷ তাতে আফগানিস্তানে তালেবানসহ জঙ্গি তত্‍পরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে৷ যার প্রভাব পড়বে এই অঞ্চলে৷

বিআইপিএসএস-র প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.) ডয়চে ভেলেকে বলেন, ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে জঙ্গি তত্‍পরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে৷ তিনি জানান, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর যোগাযোগ আছে আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে৷ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ এবং জেএমবিসহ আরো অনেক জঙ্গি সংগঠন গড়ে উঠেছে আফগান ফেরত ‘মুজাহিদ'দের নেতৃত্বে৷ তাদের অনেক নেতা-কর্মী এক সময়ে আফগানিস্তানে রাশিয়া বিরোধী যুদ্ধে অংশ নিয়েছে৷ পরবর্তী সময়ে তালেবানরা তাদের বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলতে অর্থ এবং রসদ দিয়ে সহায়তা করেছে৷ গত এক দশক আফগানিস্তানে তালেবান চাপের মুখে থাকায় বাংলাদেশের জঙ্গিরাও ঝিমিয়ে পড়েছিল৷ আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহার হওয়ার পর তালেবান যদি সক্রিয় হয় তার প্রভাব বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপরও পড়বে৷

ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া'র পরিচালক লে. জেনারেল পি কে সিং (অব.) ডয়চে ভেলেকে বলেন কোনো দেশেই জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা তাদের পাশের দেশের জঙ্গিদের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারেনা৷ আর সে কারণেই আফগানিস্তানে তালেবানরা আবার সক্রিয় হলে তার প্রভাব বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত এবং পাকিস্তানে পড়বে৷ তবে শুধু যে এই কারণেই জঙ্গি তত্‍পরতা বাড়বে তা নয়৷ তাদের অর্থ এবং রসদের ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ৷ আর তা বন্ধ করা না গেলে তাদের দমন করা কঠিন৷ এজন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত পরস্পরকে সহযোগিতা করা৷

মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.) বলেন, সে জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এখনই প্রস্তুতি নেয়া উচিত৷ আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহার পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে৷ জঙ্গিদের অর্থ এবং রসদের উত্‍স বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য