1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা৪ জানুয়ারি ২০১৪

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক ভিডিও বার্তায় দলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচন প্রতিহত করতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ এদিকে সারাদেশে সহিংসতায় উদ্বিগ্ন প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷

https://p.dw.com/p/1AlDc
Tarique Rahman BNP Bangladesh
ছবি: cc-by-Shamsul alam66

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান নির্বাচনের আগের দিন শনিবার এক ভিডিও বার্তায় দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘কারোর নির্দেশের অপেক্ষা না করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে হবে৷ ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আন্দোলনে৷''

বর্তমানে লন্ডনে বসবাসরত এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘‘দেশ আজ এক কারাগারে পরিণত হয়েছে৷ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নাই৷ কেবল আছে ভীতি আর আতঙ্ক৷ জনবিচ্ছিন্ন সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায়৷ তাই তারা (ক্ষমতাসীনরা) দেশের মানুষের ইচ্ছাকে পদদলিত করে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করতে চাইছে৷''

তারেক রহমান বলেন, ‘‘দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে৷'' তিনি দেশবাসীকে এই নির্বাচন বর্জন এবং প্রতিহতের আহ্বান জানান৷

গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিদেশে অবস্থানরত তারেক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘‘এই সরকার নিজেদের স্বার্থে সংবিধান বদলে ফেলেছে৷ এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করছে৷''

সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান তারেক জিয়া৷ তিনি মনে করেন, ১৮ দলের চলমান আন্দোলন অবশ্যই সফল হবে৷

এদিকে, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তারেক রহমানের এই ভিডিও বার্তা চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে৷ নেতা-কর্মীরা নতুনভাবে উজ্জীবিত হবেন৷ রবিবারের এক তরফা নির্বাচনে ভোট দেবে না দেশের মানুষ৷''

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘‘কোনোভাবেই জ্বালাও, পোড়াও ও হামলা চালিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না৷ নির্বাচন হবেই, মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে৷ বিএনপির নির্বাচন প্রতিহত করার কোনো শক্তি নাই৷''

তিনি বলেন, ‘‘রবিবারের নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসবে৷ আর বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হবে ২০১৯ সালে৷''

সারাদেশে সহিংসতা, পুড়ছে নতুন বই

নির্বাচনের আগের দিন সারাদেশে সহিংসতা নতুন মাত্রা পেয়েছে৷ নির্বাচন বিরোধীরা যানবাহনে হামলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট কেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে ও আগুন দিচ্ছে৷ আর ভোট কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে - বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে - হওয়ায় কয়েক দিন আগে দেয়া সরকারের বিনামূল্যের বই পুড়ছে দেদারছে৷ এ পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলার অর্ধশত ভোট কেন্দ্রে আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ আগুনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন বছরের বইও পুড়ে গেছে৷

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজধানীর সব ভোট কেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল দুর্বৃত্তরা৷ তারা আগে থেকেই গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরপত্তা জোরদার করেন৷ পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও সারা দেশের ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা আরো বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷

উদ্বিগ্ন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনের আগে ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়া এবং সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, যতদূর সম্ভব এসব ভোট কেন্দ্র মেরামত করা হচ্ছে৷ রবিবারে ভোটগ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না৷

নির্বাচনকে সামনে রেখে যে সহিংসতা হচ্ছে তার দায় কে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘‘কারা সহিংসতা করছে তা দেশবাসী দেখছে৷ রবিবারের নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ হবে৷''

উল্লেখ্য রবিবারের নির্বাচনে ৩৭টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগসহ ১২টি দল অংশ নিচ্ছে৷ প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ২৫টি নিবন্ধিত দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে৷ নির্বাচনের আগেই ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন৷ তাই নির্বাচন হচ্ছে ১৪৭টি আসনে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য